kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি বিচারকাজ

দীপন হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি বিচারকাজ

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী প্রকাশক ও ব্লগার ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যার পাঁচ বছর পার হলেও বিচারকাজ শেষ হয়নি এখনো। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপারমার্কেটে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর আজও মামলাটি বিচারাধীন। তবে দ্রুত এ মামলার বিচারকাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

এদিকে দীপন হত্যার দিনই তাঁর স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান শাহবাগ থানায় অচেনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে বিচারাধীন। গত বছরের ১৩ অক্টোবর মামলাটির অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর  একই বছরের ১৮ নভেম্বর মামলাটির প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মামলার ২৬ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য  আগামী ৯ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

এর আগে মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকা সিএমএম আদালতে ডিবির সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমান আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার প্রধান ও বরখাস্ত হওয়া মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, মইনুল হাসান শামীম, আবদুস সবুর সামাদ, খাইরুল ইসলাম, আবু সিদ্দিক সোহেল, মোজাম্মেল হুসাইন, শেখ আব্দুল্লাহ ও আকরাম হোসেন। এ মামলার আট আসামির মধ্যে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। অন্য দুই আসামি পলাতক। কারাগারে বন্দি প্রত্যেক আসামি আদালতে কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত বছর ৮ জানুয়ারি মামলাটি বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর গত বছরের ১৯ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত পলাতক দুই আসামি মেজর জিয়া ও আকরামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, দীপনকে হত্যার নির্দেশদাতা, মূল পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ছিলেন পলাতক সৈয়দ জিয়াউল হক। আসামি খাইরুল, আবদুস সবুর ও মইনুলকে তিনি হত্যাকাণ্ডের আগে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। শুনেছি করোনা বন্ধের পর ফের বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, আদালত দু-তিন মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করবে।’

মামলা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম সারওয়ার জাকির বলেন, ‘অভিযোগ গঠনের পর নিয়মিতভাবে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চললেও করোনার কারণে সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ ছিল। তবে ফের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ মামলায় চিকিৎসক ও তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষীর মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে। আশা করছি, নভেম্বর মাসে এ মামলায় বিচারকাজ শেষ হবে।’

মন্তব্য