kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন

স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

স্বামী ও ভাশুরের সম্পৃক্ততার ধারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। ওই ঘটনায় এএসপি (বেগমগঞ্জ সার্কেল), বেগমগঞ্জ থানার ওসি, এএসআই, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার ও চৌকিদারের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওই নির্যাতনের ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ও ভাশুরের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করছে তদন্ত কমিটি।

হাইকোর্টে দাখিল করা নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ারকে ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করে দায়িত্বে অবহেলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করা হয়েছে। 

এদিকে গতকাল বিটিআরসির পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) থেকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মেনে ভিডিওর একটি কপি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর একটি কপি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমাও দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। আদালত এ বিষয়ে আগামী ২৯ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে হাইকোর্ট গত ৫ অক্টোবর এক আদেশে ওই ঘটনায় কাদের অবহেলা রয়েছে তা অনুসন্ধানে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এ নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গত ২ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার ভিডিও গত ৪ অক্টোবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একজন নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর করছে। তাদের একজন পা দিয়ে ওই নারীর মুখ চেপে ধরেছে। বারবার আকুতি জানানোর পরও তাঁর ওপর নির্যাতন থামেনি।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় স্থানীয় পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনায় ওই নারী একটি মামলা করেন। নারী নির্যাতনের ওই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন গত ৫ অক্টোবর আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। এরপর আদালত আদেশ দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা