kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর

শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপেও চীন ঠেকানোর বার্তা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপেও চীন ঠেকানোর বার্তা

ছবি ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিফেন বিগান এ মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সফর করেছেন ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। এই সফরগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি অভিন্ন ইস্যু ছিল। সেটি হলো ‘চীন ঠেকাও’। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন যে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ প্রণয়ন করেছে তাতে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও তৎপরতাকে।

স্টিফেন বিগান ভারত ও বাংলাদেশ সফর করে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর যে টেলিফোনিক সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেখানে রোহিঙ্গা সংকটে চীনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক অ্যাসপার নয়াদিল্লিতে বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে চীনের ‘আগ্রাসনকে’ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। এরপর মাইক পম্পেও তাঁর শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ সফরেও চীনবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। চীনকে ‘শিকারি’ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে গতকাল বুধবার কলম্বোয় সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপকে চীন ‘খারাপ চুক্তি’ করার প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতের মতো শ্রীলঙ্কায়ও তিনি বলেছেন, বিশ্ব চীনের উহান থেকে সৃষ্ট করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে মাইক পম্পেও এই অঞ্চলে এসে চীনবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের চীন নীতির সমালোচনা করছেন। ট্রাম্পের দাবি, চীনের ব্যাপারে জো বাইডেনের মনোভাব ওবামা প্রশাসনের মতোই কোমল। করোনাভাইরাস মোকাবেলাও যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনের অন্যতম ইস্যু। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নভেল করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ নামে অভিহিত করেছিলেন।

এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি ও চীনবিরোধী স্ট্র্যাটেজিক লড়াইয়ে বড় অংশীদার হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশসহ বাকি দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের সফর, বৈঠককে স্বাগত জানালেও চীনবিরোধী বক্তব্য দেয়নি।

ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং তাঁর দেশের পত্রিকা গ্লোবাল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে চীনবিরোধী শিবিরে টানার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় এ বিষয়টি স্পষ্ট।

বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। জানা গেছে, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে বাংলাদেশ আরো জানার ও বোঝার চেষ্টা করছে।

নয়াদিল্লিতে গত মঙ্গলবার ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবেই বলেছে, তারা ভারতের পাশে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীর নয়াদিল্লিতে জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গিয়ে সম্প্রতি চীনের সঙ্গে সংঘাতে নিহত ভারতীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনবিরোধী বক্তব্য দিলেও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিনেশ গুনাবর্ধনে অবশ্য এই ফাঁদে পা দেননি। তিনি বলেছেন, সব বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা কাজ করতে আগ্রহী।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা