kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কিশোর গ্যাংয়ের মাদক আড্ডায় খুন হন আশিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোর গ্যাংয়ের মাদক আড্ডায় খুন হন আশিক

রাজধানীর কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ওঠা একটি কিশোর গ্যাংয়ের মাদকের আড্ডাতেই হত্যা করা হয়েছে আশিক রহমানকে (১৬)। গত মঙ্গলবার সকালে কলাবাগানের ৭ ও ৮ নম্বর বাড়ির মাঝের অংশে নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় আশিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্বজনরা বলছেন, ৮ নম্বর পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে মারা গেছে আশিক। ওই ভবনের ছাদে রাতে কয়েকজন মাদকাসক্ত তরুণের আড্ডার তথ্যও মিলেছে। গত সোমবার রাতে আশিককে ডেকে নেওয়ার পর নিজেদের মধ্যে বিরোধের জেরে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্বজনরা। পুলিশ বাড়িটির মালিক হারুন-অর-রশিদ, তাঁর ছেলে ভলিয়ম এবং নাহিদ নামের একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয়রা বলছেন, আশিক তার বাবা কামাল মিয়ার সঙ্গে ফুচকার দোকান চালায়। তবে পাঁচতলা বাড়ির মালিক হারুন-অর-রশিদের দুই ছেলে ভলিয়ম ও রেজোয়ান তাঁর সঙ্গে চলাফেরা করত। তারা একসঙ্গে এলাকায় ঘুরে বেড়ানো, আড্ডাবাজি এবং মাদক সেবন করত। এই গ্রুপের কয়েকজনকে এর আগে পুলিশ আটকও করেছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে তাঁদের কাছে আগে তথ্য ছিল না।

কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ বলেন, ‘আশিকের স্বজনরা প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করেছেন। তবে এটা হত্যা কি না তা এখনো তদন্তাধীন। গ্রামের বাড়িতে আশিকের লাশ দাফনের পর স্বজনদের থানায় ডেকে আনা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আশিক যাদের সঙ্গে ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের বলে আগে তথ্য পাইনি। তবে এখন পাওয়া যাচ্ছে।’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আশিক, ভলিয়ম, রেজোয়ান, নাহিদসহ কয়েকজন নিয়মিত বাসার ছাদে আড্ডা দিত। সেখানে গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করত তারা। এলাকায় সবাই তাদের বখাটে বলেই দাবি করছে।

কাঁঠালবাগানের এক বাসিন্দা বলেন, ‘সম্প্রতি এই গ্রুপটি গড়ে উঠেছে। তাদের এলাকায় আড্ডা দিতে দেখা যাচ্ছিল। সবাই নেশা করে।’

আশিকের বড় ভাই সাগর আহমেদ বলেন, ‘গত সোমবার সন্ধ্যার পরে নাহিদ ফোন করে আশিককে ডেকে নেয়। হারুন-অর-রশিদের দুই ছেলে ভলিয়ম ও রেজোয়ানদের সঙ্গেই চলত আশিক। তারা মাদকাসক্ত। ওদের বাড়িতেই আমার ভাইকে কোনো কারণে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে। আমরা এই খুনের বিচার চাই।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের বাড়াইলচড় গ্রামের কামাল মিয়ার তিন ছেলের মধ্যে ছোট আশিক পরিবারের সঙ্গে কাঁঠালবাগানের লাকি হোটেল মোড়ে ভাড়া বাসায় থাকত। বাসার কাছেই তার বাবা ও ভাই সাগর চটপটি বিক্রি করেন। সেখানে কাজ করত আশিক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা