kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ

জবির তিব্বত হলকে বেচা হয় মার্কেট হিসেবে

মাসুদ রানা   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জবির তিব্বত হলকে বেচা হয় মার্কেট হিসেবে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিব্বত হলই এখন ‘গুলশান আরা সিটি মার্কেট’। ছবি : কালের কণ্ঠ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিব্বত হলের অবস্থান পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর ওয়াইজঘাট ৮ ও ৯ নম্বর জিএল পার্থ লেনে। এই হল সংস্কার করে সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিম স্ত্রী গুলশান আরার নামে মার্কেট তৈরি করেন বলে অভিযোগ আছে। বিভিন্ন সময় এই হল উদ্ধারের জন্য শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও তেমন ফল দেখা যায়নি। বরং হলটি হাজি সেলিমের দখলেই থেকে গেছে।

এদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অর্পিত সম্পত্তি শাখার তথ্য অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলকৃত ১২টি হলের মধ্যে ‘তিব্বত হল’ একটি। ২০০১ সালে হাজি সেলিম হলটির অবকাঠামো পরিবর্তন করে স্ত্রীর নামে ‘গুলশান আরা সিটি মার্কেট’ নামক বহুতল বিপণিবিতান তৈরি করেন।

জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ) বেদখলকৃত হলগুলোতে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বসবাস করে আসছিলেন। ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলায় স্থানীয়দের সঙ্গে শহীদ আব্দুর রহমান হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের পর তিনটি বাদে বাকি হলগুলো বন্ধ করে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে তিব্বত হল একটি। শিক্ষার্থীরা নব্বইয়ের দশকে একবার হলটি ফেরত নিতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ওই ভবনের দোতলায় আগুন দিলে তখনকার অধ্যক্ষ ড. হাবিবুর রহমান শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনেন। পার্থ লেনের বিভিন্ন স্থানে ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘তিব্বত হল’ লেখা সাইনবোর্ড দেখা গেলেও শিক্ষার্থীরা আর সেখানে ফিরতে পারেননি। সর্বশেষ ২০১৪ সালে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা হলটি ‘ঘেরাওয়ে’ গেলে হাজি সেলিমের সমর্থকরা হামলা করে এবং পুলিশ লাঠিপেটা ও গুলি করে। ওই দিন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন গুলিবিদ্ধসহ তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল উদ্ধার আন্দোলনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, ‘ওই সময় হাজি সেলিম তৎকালীন উপাচার্য ড. মেসবাহউদ্দিনের সঙ্গে উপঢৌকন নিয়ে দেখা করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হল উদ্ধারে আন্দোলন করে। সরকারের বিভিন্ন মহল থেকেও এই হল উদ্ধারে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে তা স্তিমিত হয়ে যায়। সরকারের উচিত এ জায়গা উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা।’

হল উদ্ধার ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এফ এম শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৪ সালে যখন আমাদের হল উদ্ধার আন্দোলন তীব্র তখন সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হল উদ্ধার কমিটি গঠন করে। এ কমিটির আমিও একজন সদস্য। হাজি সেলিম তিব্বত হল সংস্কার করে গুলশান আরা সিটি মার্কেটের নামে দোকান হিসেবে পজিশন বিক্রি করে দেন। তখন হল উদ্ধার আন্দোলনে হাজার হাজার ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমাদের মুখোমুখি হতে হয়। তাই আমরা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পেরে উঠিনি।’

হল উদ্ধারে সরকার গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হল উদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক জগন্নাথ কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল উদ্ধারের জন্য একটি প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি হল উদ্ধারও হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে কোনো খোঁজখবর না রাখায় হলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গুলশান আরা সিটি মার্কেটের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাজি মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘মার্কেটটি কখনো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিল না। এটি যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছিল না—এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের সে সময় একটি চিঠিও দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘এগুলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কখনো মালিকানায় ছিল না। এগুলো হিন্দুদের পরিত্যক্ত বাড়ি, ছাত্ররা এখানে থাকত। পুরনো হলগুলো নিয়ে যে মামলা-মোকদ্দমা চলছে তা জগন্নাথের সঙ্গে না। হলগুলোর মালিক হাজি সেলিমও না। সরকারের উচিত এগুলো উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়া।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা