kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

১০ বছরের ‘ভূত’ তাড়াবে কে?

নীলফামারী ও ডোমার প্রতিনিধি   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নীলফামারীর ডোমার উপজেলার এক গৃহিণীর টেলিফোন ১০ বছর ধরে বিকল হয়ে আছে। অথচ প্রতি মাসে ন্যূনতম বিলের (১৭৩ টাকা) কাগজ তাঁর বাসায় নিয়মিত পাঠায় কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা সদরের কলেজপাড়ার গৃহিণী মোর্শেদা বেগম (৪৫) বলেন, ‘কম খরচে ঢাকায় বাবার বাসার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সংযোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু টেলিফোন বিভাগের তার চুরি হওয়ায় আমারটিসহ আশপাশের আরো কয়েকটির সংযোগ ১০ বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়। অসংখ্যবার অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। অথচ প্রতি মাসে বিলের কাগজ আসা থামেনি। এখন শুনছি মূল সংযোগের ত্রুটির কারণে এক বছর ধরে ডোমারের সব টেলিফোন বিকল হয়ে আছে।’ স্থানীয় সূত্র জানায়, ডোমার টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বিকল এক বছর ধরে। এরপরও ২১৭ জন গ্রাহকের ঘাড়ে প্রতি মাসে চাপছে বিলের বোঝা।

সদরের থানাপাড়ার গ্রাহক ফিরোজ ফারুক নিপু (৫০) বলেন, ‘বাসায় একটি টেলিফোন আছে। কিন্তু এক বছর ধরে কোনো সেবা পাচ্ছি না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছি। কোনো কাজ হয়নি। সেবা বন্ধ হলেও প্রতি মাসে ন্যূনতম বিল যোগ হচ্ছে।’

সবুজপাড়া গ্রামের গ্রাহক মোজাফফর আলী (৫৫) পেশায় একজন সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘বছরের ১২ মাসই খারাপ থাকে টেলিফোন। অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয় না। অথচ বিল আসছে প্রতি মাসে।’

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে আমি এখানে যোগদান করেছি। এর পর থেকে এক দিনও ল্যান্ড ফোনে কল দিতে পারি নাই। কিন্তু বিল তো নিয়মিত দিচ্ছি।’

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে ডোমার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের দৈন্যদশা। অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে আসবাবসহ সব যন্ত্রপাতি। কাজ না থাকায় সেখানে বিচরণ নেই কোনো সাধারণ গ্রাহকের।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা