kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

নোনা জলের মাঠে চাষির সবুজ স্বপ্ন

খুলনার দাকোপে রোপা আমনের বাম্পার ফলন

কৌশিক দে, খুলনা   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নোনা জলের মাঠে চাষির সবুজ স্বপ্ন

সর্বনাশা চিংড়ি চাষ ও নোনা পানির কারণে এ সময়টায় উপকূলের এই অঞ্চল মাইলের পর মাইল থাকত বিরানভূমি। হেমন্তে এবার যেন অন্য রকম ছবি। পিচঢালা সড়কের দুই পাশে সবুজের দোলা। ডানা মেলেছে ধানক্ষেত। খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের হাজারো কৃষকের চোখে-মুখে এখন সবুজ স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্নের চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সবুজ ফসল বিনষ্টকারী কারেন্ট পোকা আর আগামরা রোগ।

কৃষকরা বলেছেন, সব কিছু ঠিক থাকলে এবার রোপা আমনের বাম্পার ফলন হবে। নোনা জলের এই এলাকায় এবার ধানের ভালো ফলন হলেও কিছু স্থানে কারেন্ট পোকা ও আগামরা রোগ দেখা দিচ্ছে। এটি ছড়িয়ে গেলে সব স্বপ্ন ম্লান হয়ে যাবে। এরই মধ্যে কেউ কেউ ওষুধ ছিটানো শুরু করেছেন। অবশ্য কৃষি দপ্তরও বলেছে, জেলার সবচেয়ে বেশি রোপা আমন চাষ হয়েছে দাকোপে। রোগবালাই প্রতিরোধ ও ফসল রক্ষায় কৃষি বিভাগ তৎপর রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে কৃষি দপ্তর ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনার দাকোপ মূলত লবণপ্রবণ এলাকা। লবণ পানিতে চিংড়ি চাষের কারণে একসময় কৃষির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। সরকারের কৃষি বিভাগের তৎপরতায় সেই অবস্থা অনেকটাই পাল্টেছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে জেলার সবচেয়ে বেশি ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে এ উপজেলায়। তিলডাঙ্গা, পানখালী, চালনা, বাজুয়া, দাকোপ, কামারখোলা, সুতারখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিআর ১০, বিআর ১১, বিআর ২২, বিআর ২৩, বিরি ৩০, বিরি ৪৯, বিরি ৫১, বিরি ৫২ ও বিরি ৭৬ জাতের আমনের আবাদ হয়েছে। ধানক্ষেতগুলোতে এখন সবুজের সমারোহ। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ধানের চারা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেতে আগামরা ও কারেন্ট পোকা দেখা যাচ্ছে। কৃষকের এ সমস্যা মোকাবেলায় উপজেলা কৃষি দপ্তর নিয়মিত হাট বৈঠক, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভিডিও প্রর্দশন, রোগ ও ক্ষতিকারক কীট দমনে ওষুধের মাত্রা উল্লেখসহ স্টিকার ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আলোকফাঁদ প্রযুক্তি, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের সংখ্যা নিরূপণে অতন্ত্র জরিপ পরিচালনা করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২৮টি ব্লকে প্রায় ২১০টি আলোকফাঁদ স্থাপন শুরু করেছে। এর বাইরেও কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় কৃষকরা প্রায় ৮০ থেকে ৮৫টি আলোকফাঁদ স্থাপন করেছেন। ধানে সবুজ ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করতে ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ প্রযুক্তি ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা হবে।

চালনা এলাকার কৃষক জুবায়ের রহমান লিংকন বলেন, ‘এবার মাঠ দেখে স্বপ্ন দেখছিলাম। আমার ৩৩ বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছি। হঠাৎ কারেন্ট পোকার আনাগোনা দেখে ভয় পাচ্ছি। এরই মধ্যে প্রায় ছয় হাজার টাকার কীটনাশক কিনে ব্যবহার শুরু করেছি। কারেন্ট পোকা, আগামরা রোগ থেকে রক্ষা পেলে হয়তো ফসল ঘরে তুলতে পারব। না হলে পথে বসতে হবে।’

পানখালী ব্লকের চাষি সাগর হালদার বলেন, ‘১০ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। ক্ষেতে বাদামি ঘাসফড়িং ও পাতা মোড়ানো পোকার উপস্থিতি দেখা গেছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, ‘আমরা কৃষকদের সর্বাত্মক সেবা নিশ্চিত করছি। শুধু মাঠ পরিদর্শনই নয়, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ভ্রাম্যমাণ সার্বক্ষণিক সেবা, পরামর্শ, যথাযথ ওষুধ ও প্রাকৃতিক ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা