kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সালিসে জরিমানা

শ্রীপুরে যুবকের আত্মহনন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীপুরে যুবকের আত্মহনন

১০ বছর বয়সী এক শিশুকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ছিল মো. হাবীব রানা নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উত্ত্যক্তের শিকার মেয়েটির অভিভাবকদের থানায় যেতে না দিয়ে রাতে সালিস বসিয়েছিলেন গ্রামের মাতবররা। সালিসে ‘অপরাধী’ সাব্যস্ত করে হাবীব রানাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে এক দিনের মধ্যে ভাড়া বাসা ছেড়ে দেওয়ারও আদেশ দেন মাতবররা। কিন্তু জরিমানার টাকা জোগাড় করতে না পেরে সকালেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন হাবীব রানা।

গতকাল রবিবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার দক্ষিণ ভাংনাহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হাবীব রানা (২৪) বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার দক্ষিণ ভাংনাহাটি গ্রামের মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেখানে পাশের হ্যামস ফ্যাশন কারখানায় চাকরি করতেন তিনি।

নিহত হাবীব রানার ভাই মফিজুল ইসলাম জানান, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে তাঁর ভাইয়ের মোবাইল নম্বর থেকে তাঁকে ফোন দেওয়া হয়েছিল। তাত্ক্ষণিক ফোন ধরতে পারেননি তিনি। একঘণ্টা পর তাঁর ভাইয়ের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তা ধরেন বাড়ির মালিকের ছেলের বউ। তখন তাঁকে জানানো হয়, পাশের কক্ষের এক ভাড়াটিয়ার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় হাবীব রানাকে আটকে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সালিসে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, চলতি অক্টোবর মাসের বাসাভাড়া ও পাশের দোকান বাকি পরিশোধ করে এক দিনের মধ্যে বাসা ছাড়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তা জেনে তিনি ওই রাতেই হাবীব রানার বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি জেনেছেন, তাঁর ভাইকে সালিসে মারধর করা হয়েছে। পরে জরিমানার টাকা জোগাড় করার জন্য গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গতকাল সকাল ১১টার দিকে ঘর থেকে প্রতিবেশীরা তাঁর ভাইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

মফিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার এক শিশু মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর ভাইয়ের কথোপকথনের রেকর্ডের সূত্র ধরে বাড়ির মালিককে জানান শিশুটির বাবা। তা জেনে তাত্ক্ষণিক বাড়ির মালিক মনির হোসেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোজাম্মেল, জহিরসহ কয়েকজন প্রভাবশালী গত শনিবার রাতে হাবীব রানাকে ধরে এনে সালিস বসান। সেখানে হাবীবকে ‘অপরাধী’ সাব্যস্ত করে মারধর করেন। পরে জরিমানা ঘোষণা করে তা আদায়ের জন্য সময় বেঁধে দেন তাঁরা।

তবে বাড়ির মালিকের ছেলে নবু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হাবীবকে মারধর কিংবা জরিমানাও করা হয়নি। চলতি মাসের ভাড়া ও দোকান বাকি দিয়ে বাসা ছাড়তে বলা হয়েছিল।’

শ্রীপুর থানার ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ‘দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে হাবীব রানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি আজ (গতকাল) দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে সালিস বসিয়ে মারধর, জরিমানা করা হয়েছিল কি না তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা