kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে

ক্ষুব্ধ ছেলে হত্যা করায় সত্বাবাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাবা সৌদিপ্রবাসী। দেশে মায়ের সঙ্গে থাকেন তিন সন্তান। এরই মধ্যে প্রতিবেশী নবী হোসেনের সঙ্গে মায়ের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে মা দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার পাতেন। মায়ের পরকীয়া এবং দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি ছেলে। এই কারণে ভাড়াটে খুনিকে দিয়ে মায়ের দ্বিতীয় স্বামীকে হত্যা করিয়েছেন ছেলে। এরপর লাশ ফেলে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া থানা এলাকায়।

এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে খুনিদের নানা ছক কষতে হয়। ভিকটিমকে অপহরণ করা হয় ভৈরব থেকে। খুন করা হয় চলন্ত প্রাইভেট কারে। আর খুন নিশ্চিত করতে নবী হোসেনের পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে গাড়িতে। শেষে লাশ ফেলা হয় পটিয়া থানা এলাকায়। লাশ ফেলে দেওয়ার পর খুনিরা প্রমোদভ্রমণে যায় কক্সবাজারে। পরে ফেরে ভৈরবে। 

এর পরও খুনিদের শেষ রক্ষা হয়নি। পিবিআইয়ের ধারাবাহিক অনুসন্ধানে গ্রেপ্তার হয়েছে আশিক মিয়া (২১) ও সুমন মিয়া (২৪)। গত শনিবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছে পিবিআই। গতকাল রবিবার এই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহাম্মদ খোন্দকার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, সোমবার তাঁদের কারাগার থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এতে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

এসপি নামজুল হাসান বলেন, গত ১৭ অক্টোবর পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিখাইন এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশ থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো এবং পায়ের রগ কাটা ছিল। ওই দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিবিআই নিহতের আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়, ওই ব্যক্তির নাম নবী হোসেন। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের পুরানচর এলাকার বাসিন্দা।

এই ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নবী হোসেনের ভাই। ওই মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই। তদন্ত পর্যায়ে ভৈরব থেকে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য মতে, পরবর্তী সময়ে একটি প্রাইভেট কার এবং একটি নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়। দুই আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মা পরকীয়া প্রেম করে নবী হোসেনকে বিয়ে করার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে সাব্বির (মায়ের প্রথম ঘরের সন্তান) ৬০ হাজার টাকায় খুনি ভাড়া করেন। এই ভাড়াটিয়া খুনিদের দুজন গ্রেপ্তার আশিক ও সুমন। তাঁদের মধ্যে আশিক ১৮ হাজার এবং সুমন ১৭ হাজার টাকা পেয়েছেন।

খুনের বর্ণনা দিয়ে আসামিরা পিবিআইকে জানিয়েছেন, সাব্বির খুনের জন্য ভাড়াটিয়া ঠিক করে তুষার নামের একজনকে। এই তুষারই তাঁদের ঠিক করেন। সাব্বির ও তুষার দুজনই এখনো অধরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা