kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

আমদানিকারকের জালিয়াতি ধরল চট্টগ্রাম কাস্টমস

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমদানিকারকের জালিয়াতি ধরল চট্টগ্রাম কাস্টমস

চট্টগ্রাম বন্দরে অভিনব এক জালিয়াতি উদঘাটন করেছে কাস্টমস। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নকল ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে ভুয়া অনুমতিপত্র আপলোড করে কাস্টমসকে বোকা বানিয়ে পণ্য খালাসের চেষ্টা করে আমদানিকারক সিয়াম এন্টারপ্রাইজ। কাস্টমসের কর্মকর্তাদের কারণে ছাড়ের আগেই সেটি ধরা পড়ে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গত এপ্রিলে দুটি আমদানি চালানে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করে সিয়াম এন্টারপ্রাইজ ও সিয়াম ট্রেডিং নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। চালান দুটি খালাসের আগে কাস্টমসের গোয়েন্দা দল এআইআর কন্টেইনার খুলে কায়িক পরীক্ষার পর দুটি চালান জব্দ করে। দুটি চালানে শুল্ক করসহ ৭৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আমদানিকারক সিয়াম এন্টারপ্রাইজ কাস্টমস আরোপিত শুল্ক পরিশোধ না করে পণ্য ছাড়ের নতুন কৌশল নেয়। শুধু শুল্ক ফাঁকি দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কমার্শিয়াল পারমিটের (সিপি) একটি কপি ভুয়া সিল ও সই দিয়ে কাস্টমসে জমা দেয়। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রায় হুবহু একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে এই ভুয়া সিপির কপি আপলোড করে। সিয়াম এন্টারপ্রাইজ ও সিয়াম ট্রেডিংয়ের অফিস ঢাকার চকবাজার এলাকায়।

কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সহকারী কমিশনার সানজিদা অনুসূয়ার সিপির কপি দেখে সন্দেহ হয়। কারণ এপ্রিলে চালান দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে তিনি জব্দ করেন। পরে বিষয়টি জানতে তিনি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের কাছে ফোন দেন এবং নিশ্চিত হন মন্ত্রণালয়ের সিপি সিল-সই সবই ভুয়া।

কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সানজিদা অনুসূয়া বলেন, ‘এপ্রিলে আমি মিথ্যা ঘোষণায় আনা চালান দুটি জব্দ করে সিয়াম এন্টারপ্রাইজকে জরিমানাসহ শুল্ক আরোপ করি। আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য কিভাবে সিপি পেল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন করি এবং নিশ্চিত হই বিষয়টি ভুয়া।’

তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের সঙ্গে হুবহু মিল রেখে শুধু একটি ডট না দিয়ে বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। এমনিতেই আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য এনে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে; এখন বড় ধরনের জালিয়াতি করে ফৌজদারি অপরাধ করল। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এ ব্যাপারে আমদানিকারক সিয়াম এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল জলিলের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে তিনি যুক্ত হননি।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এটা সত্যিই উদ্বেগজনক। এ ঘটনার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই পণ্য আমদানিতে আরো কড়াকড়ি করবে। এর ফলে সত্যিকারের আমদানিকারকরা বাড়তি ভোগান্তিতে পড়বেন।

 

মন্তব্য