kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

রায়গঞ্জ আ. লীগের সম্মেলন ঘিরে ক্ষোভ

কাউন্সিলর তালিকায় এক পরিবারের আটজন!

‘টাকা নিয়ে’ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীর লোকজন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাউন্সিলর তালিকায় এক পরিবারের আটজন!

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আগের কমিটি নিজেদের ইচ্ছামতো কাউন্সিলরদের নামের তালিকা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি পরিবার হতে দুই থেকে আটজনকে পর্যন্ত কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু প্রার্থীর লোকজন টাকা নিয়ে কাউন্সিলরদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। এক প্রার্থীর ছেলে কাঁধে ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে দেখাচ্ছেন—এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক।

আগামী ২৯ অক্টোবর রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে নতুন প্রার্থীরা চাচ্ছেন পরিবর্তন আর পুরান প্রার্থীরা চাচ্ছেন ক্ষমতা ধরে রাখতে।

সরেজমিনে জানা যায়, ২০১৩ সালে সর্বশেষ রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ সম্মেলনে  আব্দুল হাদী আলমাজি জিন্নাহকে সভাপতি এবং শরিফুল আলম শরীফকে সাধারণ সম্পাদক করে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ে সম্মেলন না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম খুঁড়িয়ে চলছিল। জাতীয় দিবস, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলো পালন করা হয়েছে দায়সারাভাবে। মূল দলের সম্মেলন না হওয়ায় সহযোগী সংগঠনগুলো ঝিমিয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভায় সম্মেলনের ঘোষণার পর থেকে নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হলেও বেড়েছে ক্ষোভ।

অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলরদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশকারীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের বিজয় নিশ্চিত করতে কৌশলে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে কাউন্সিলর তালিকায় এঁদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অথচ তালিকায় নেই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নাম।

নতুন কাউন্সিলর তালিকায় যাঁরা বিতর্কিত হচ্ছেন তাঁরা হলেন ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল মনসুর খান মিন্টু, তাঁর ভাই জুলফিকার আলী খান, ছেলে বুলবুল আহমদে খান, ছেলে রুবায়েত খান শক্তি, ছেলেরে বউ মোছা. ফিরোজা খাতুন; সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসনাত টিটো, তাঁর স্ত্রী মোছা. নিলুফা ইয়াসমীন, ভাই গোলাম সরোয়ার লিটন তাঁর স্ত্রী মোছা. ইয়াছমীন পারভীন; পাঙ্গাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক, তাঁর স্ত্রী মোছা. মমতা খাতুন; সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, তাঁর স্ত্রী মোছা. আফরোজা খাতুন, মামি নাহার সুলতানা বিউটি, মামা কামরুজ্জামান; একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, স্ত্রী মোছা. আছিয়া খাতুন, ভাই সোলায়মান শেখ, ফুফা আব্দুল বারিক, ফুফাতো ভাই আকবর আলী, চাচা ফজর আলী, মামা আ. মজিদ, মামাতো ভাই বাবলু হাসান; চান্দাইকোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিন্নাতুল আলম সম্রাট, তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলম ও বাবুল আক্তার লেবু; সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মানিক, বোন মোছা. মনোয়ারা খাতুন, ভাই রফিকুল ইসলাম টিপু; ধানগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হামিদ সরকার, তাঁর মেয়ে মোছা. হাফিজা খাতুন, ভাতিজা কামরুল ইসলাম বাবু, মামা মজিবর রহমান, বিয়াই নুরুল ইসলাম; সাধারণ সম্পাদক মীর ওবায়দুল ইসলাম মাসুম, তাঁর স্ত্রী মোছা. সাদিয়া আক্তার বিথী, ভাই মীর হেদায়েতুল্লাহ বাকী। এ ছাড়া নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, তাঁর ভাতিজা ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য সিহাবুল আলম সায়েম রয়েছেন কাউন্সিলর তালিকায়।

পাঙ্গাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক গাজী এস এম আজিমুদ্দিন বলেন, ‘১৯৭২ সালে রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হাত মেলাতে পারলেও ৪৮ বছর পর নিজ উপজেলার সম্মেলনে কাউন্সিলর হতে পারিনি। অথচ জামায়াত-বিএনপির লোকজনকে কাউন্সিলর বানানো হয়েছে। এমনকি একই বাড়ি থেকে পাঁচ-ছয়জনকে কাউন্সিলর বানানো হয়েছে।’ একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আব্দুর রহিম মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে কাউন্সিলর বানানো হলেও তাঁকে বানানো হয়নি।

সম্মেলনে সভাপতি পদে তিনজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচিত হতে তাঁরা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাউন্সিলরদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। এবার প্রথম সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি মরহুম গাজী ইসহাক হোসেন তালুকদারের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইমরুল হোসেন তালুকদার ইমন। এই পদে অন্য প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আব্দুল হাদী আল মাজী জিন্নাহ। তিনি জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং ব্যবসায়ী হওয়ায় আট বছরে দলীয় কার্যক্রমে ও নেতাকর্মীদের জন্য প্রত্যাশিত সময় দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস জানান, ইউনিয়ন কমিটি থেকেই কাউন্সিলরের তালিকা করার নিয়ম। কোনোভাবেই এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। তবে তালিকার ব্যাপারে ১৪টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত টিম কাজ করছে। টিম কঠোরভাবে বিষয়টি দেখবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা