kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রবাসীদের তিন বন্ড

বিনিয়োগ করা যাবে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত

সজীব হোম রায়   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বর্তমানে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের কোনো সিলিং নেই। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেকোনো পরিমাণ টাকা এই তিন বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। ব্যবসায়ী রেমিট্যান্স বাড়ার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রার মজুদও বাড়ছে। কিন্তু এবার সরকার এই তিন বন্ডে বিনিয়োগসীমা বেঁধে দেবে। এই তিন বন্ড মিলিয়ে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন প্রবাসীরা। এসব বন্ডকে এখন মাল্টিকারেন্সি সঞ্চয় বন্ডে রূপান্তরিত করা হবে; যাতে ডলারের পাশাপাশি পাউন্ড, ইউরোতেও বিনিয়োগ করা যায়। সম্প্রতি অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্যাশ অ্যান্ড ডেট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পলিসি ও পরিসংখ্যান) মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই তিন বন্ডের বিনিয়োগসীমা নির্ধারণসহ যাবতীয় বিষয়ে আমরা একটি প্রস্তাব অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে পাঠাব। অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যান তা অনুমোদন দিলে আমরা কার্যকর করব।’

সূত্র মতে, প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। আবার এসব বন্ডে বিনিয়োগ করলেও মোটা অঙ্কের মুনাফা পাওয়া যায়। বর্তমানে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ করলে ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। প্রতি ছয় মাস অন্তর মুনাফা তোলার সুযোগ রয়েছে। কেউ যদি ছয় মাসে মুনাফা না তোলে, তবে মেয়াদপূর্তিতে মূল অঙ্কের সঙ্গে ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে ১২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা পাওয়া যায়। প্রবাসী ছাড়াও বিদেশে লিয়েনে কর্মরত বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাঁরা বৈদেশিক মুদ্রায় বেতন-ভাতা পান তাঁরা এই বন্ড কিনতে পারেন।

ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড তিন বছর মেয়াদি। এই বন্ডে ৫০০ থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা সাড়ে ৭ শতাংশ। আর ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডও তিন বছর মেয়াদি। এতে সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণের কারণ ভিন্ন। এর প্রধান কারণ হলো, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে মাত্র ২ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে শত শত কোটি টাকা ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ করে থাকেন। এই বন্ডে মুনাফার পরিমাণ চক্রবৃদ্ধি হারে ১২ শতাংশ হওয়ায় ১৬ শতাংশের কাছাকাছি মুনাফা পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা এই বন্ডে বিনিয়োগ করে সুদের টাকায় ২ শতাংশ ঋণের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি ১০-১৪ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা ভোগ করেন।

প্রায় একই কথা বলেছেন জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পলিসি ও পরিসংখ্যান) মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, এক শ্রেণির মানুষ বিনিয়োগ সিলিং না থাকায় কৌশলে সুবিধা নিচ্ছে। আর এসব বন্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রবাসী শ্রমিকরা যাতে ভালো মুনাফা পান।

মন্তব্য