kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

বৃষ্টিতে ভাসল কোটি কোটি টাকার চিংড়ি

বাগেরহাটের চাষিরা হতাশ

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৃষ্টিতে ভাসল কোটি কোটি টাকার চিংড়ি

দুই দিনের অবিরাম বর্ষণে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় মাছের ঘের এভাবেই ডুবে যায়। ফলে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। শরণখোলার বকুলতলা গ্রাম থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

একদিকে করোনা মহামারিতে দরপতন, অন্যদিকে বৃষ্টির বাগড়ায় বাগেরহাটের চিংড়িশিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত দুদিনের বৃষ্টিতে ফের ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি। এবারের ভারি বর্ষণে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার ৯ হাজার ৭৬১টি মৎস্যঘের ও পুকুর ডুবেছে। এসব ঘের থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। এর আগে আগস্টে বাগেরহাটে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ছয় হাজার ৮৫৩টি মৎস্যঘের ডুবে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে যায়। বাগেরহাটে ১১ মাসে চারবার ঘের ডুবে কোটি কোটি টাকার চিংড়ির ক্ষতি হয়েছে। একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে চাষিরা হতাশ। বাগেরহাটে ৬৮ হাজার ১৬৫ একর জমিতে ৭৬ হাজার ৭৩০টি মৎস্যঘের রয়েছে। চিংড়ি চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ৬৫ হাজার ৮০৪ জন। 

জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় এক বছরে ভারি বর্ষণ, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাগেরহাটে ২৯ হাজার ৬২টি মৎস্যঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের হিসাব মতে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা। তবে চাষিদের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ আরো কয়েক গুণ বেশি।

চিংড়ি চাষিরা জানান, দুই দিনের ভারি বর্ষণে তাঁদের মৎস্যঘের ডুবে যায়। বিভিন্ন এলাকায় ঘের ডুবে কোটি কোটি টাকার চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে।

শরণখোলার চাষি দুলাল আকন জানান, বৃষ্টিতে তাঁর তিন বিঘা মৎস্যঘের ডুবে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। তাঁদের এলাকায় সব মৎস্যঘের ডুবে একাকার হয়ে গেছে। ঘেরের ওপর দিয়ে এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতায় বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়েছে। গতকাল শনিবারও তাঁর এলাকার মৎস্যঘের পানিতে ডুবে ছিল।

আরেক চাষি কালাম হোসেন জানান, তাঁর দেড় বিঘার ঘের ডুবে চিংড়ি ভেসে গেছে। এর আগে চিংড়িঘের নিয়ে এত বড় বিপর্যয়ের মুখে তাঁকে পড়তে হয়নি।

বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন জানান, চিংড়িশিল্পে বিপর্যয় তাঁদের পিছু ছাড়ছে না। দুই দিনের ভারি বর্ষণে প্রায় ১০ হাজার মৎস্যঘের ডুবে কয়েক কোটি টাকার চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে চাষিরা সর্বস্বান্ত হচ্ছে। চিংড়িশিল্প বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার দাবি জানান তিনি।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ভারি বর্ষণে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ৯ হাজার ৭৬১টি চিংড়িঘের ও পুকুর ডুবে পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর আগে আগস্টে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট জেলায় ছয় হাজার ৮৫৩টি মৎস্যঘের ডুবে ১৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বাগেরহাটের মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা