kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

টানা বৃষ্টির ভোগান্তিতে রাজধানীর নিম্নবিত্তরা

শাখাওয়াত হোসাইন   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টানা বৃষ্টির ভোগান্তিতে রাজধানীর নিম্নবিত্তরা

দুর্ভোগ : মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ চলায় রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা পুরানা পল্টন মোড়ে রাস্তা বেহাল হয়ে আছে দীর্ঘ দিন। টানা বৃষ্টিতে এই এলাকা দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। ছবিটি গতকালের। ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা দুই দিনের বৃষ্টি আর হিমেল বাতাস মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকার নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য। ছুটির দিনে অফিস বন্ধ থাকায় শুক্রবার বাসায় বসে অনেকেই সময় কাটানোর সুযোগ পেলেও জীবিকার তাগিদে কাজে নামতে হয়েছে নিম্নবিত্তদের। বৃষ্টিতে ভিজে মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ৩৮.৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৬৭.১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস ভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পোস্তগোলা, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, উত্তরা, বাড্ডাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান উন্নয়নকাজের ফলে ভোগান্তি আরো বেড়েছে। খানাখন্দে ভরপুর রাস্তার গর্তে জমা পানি দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিতে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে রিকশাচালকদের। অপেক্ষা ছিল অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবায় যুক্ত মোটরসাইকেলচালকদেরও। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও যাত্রী না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। এর বাইরে গৃহকর্মীরা বৃষ্টির মধ্যেও কাজে বেরিয়েছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও দোকান খুলতে পারেননি।

গুলশানের নতুন বাজার এলাকায় যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা রিকশাচালক রমজান মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্ত্রীকে সকালে কাজের জন্য একটা বাসায় দিয়া নিজে গাড়ি নিয়া বাইর হইছি। বৃষ্টির মধ্যে যাত্রী কম। আবার রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। এই হইল গরিবের জীবন।’

সোলমাইদ এলাকার গৃহকর্মী আয়শা আক্তার বৃষ্টিতে ভিজে আশ্রয় নিয়েছিলেন একটি চায়ের দোকানে। হাতে একটি ভাঙা ছাতা থাকলেও পুরো শরীর ভিজে গেছে তাঁর। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকালে কাজ করতে বাইর হইছি। বৃষ্টির জন্য বাসা থাইক্যা বাইর হইতে পারি নাই। বৃষ্টি একটু কমার পর বাইর হইলাম। আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ভিজে গেছি।’

বৃষ্টির মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে উবার ও পাঠাও চালকদের। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও যাত্রীর দেখা পাননি অনেকে।

রুবেল মিয়া নামের একজন পাঠাও চালক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকালে ভাবছিলাম বৃষ্টি কমে যাবে। কিন্তু কমার কোনো লক্ষণ নেই। বৃষ্টিতে যাত্রীরা মোটরসাইকেলে চড়তে চায় না। তারা সিএনজি, রিকশা বা বাসে চড়ে। আজ দিনটা খুব খারাপ গেছে।’

সারা দিন বৃষ্টি হওয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে আসেনি বেশির ভাগ নগরবাসী। রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা ছিল। গণপরিবহনের সংখ্যাও ছিল অনেক কম। বেশির ভাগ গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যাও কম ছিল। তবে দিনের শেষার্ধে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা বেশি দেখা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা