kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ডিএসসিসির মশা নিধন

কার্যকর ব্যবস্থাপনা আর ওষুধে আশার আলো

ভারতীয় ওষুধের অধিক কার্যকারিতা পেয়েছে আইইডিসিআর ও প্লান্ট প্রটেকশন উইং

তৌফিক মারুফ ও শাখাওয়াত হোসাইন   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীর মশা নিধনে ওষুধের মান সব সময় প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। ব্যবস্থাপনা নিয়েও নানা অসংগতির অভিযোগ পুরনো। মশার হাত থেকে নাগরিকদের রক্ষায় এই দুই বিষয়ে মনোযোগী হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তাঁর ভাষায়, মশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ের সময় বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কার্যকর ওষুধ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে মশার প্রকোপ বেশ কমেছে।

লার্ভিসাইডিং বলতে মশার লার্ভা দমনে কীটনাশক ছিটানোকে বোঝায়। সিটি করপোরেশন বলছে, আগে ডিএসসিসি এলাকায় সকাল ৮টা থেকে এক ঘণ্টা লার্ভিসাইডিং করা হতো। গত ৭ জুন থেকে এ সময় চার ঘণ্টায় উন্নীত করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নর্দমা ও জলাশয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে কীটনাশক ‘টেমিফস’।

আর অ্যাডাল্টিসাইডিং বলতে প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াকে বোঝায়। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, আগে উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যায় এক ঘণ্টা ফগিং করা হতো। তবে বর্তমানে দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা অ্যাডাল্টিসাইডিং প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ‘মেলাথিওন’ কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, এই দুই ওষুধের মান যাচাই করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্লান্ট প্রটেকশন উইং। তাদের পরীক্ষায় আগের ওষুধের অধিক কার্যকারিতার ফল মিলেছে। আগে অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ের জন্য মেলাথিওন ও ডেল্টামেথ্রিন ব্যবহার করা হতো। এখন ডেল্টামেথ্রিন প্রয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছে। আগে ওষুধ আসত চীন ও ভারত থেকে। বর্তমান ব্যবহৃত ওষুধগুলো ভারত থেকে আমদানিকৃত। এখন ডিএসসিসিতে যে পরিমাণ ওষুধ মজুদ আছে, তাতে আরো আট মাস অ্যাডাল্টিসাইডিং এবং ছয় মাস লার্ভিসাইডিং করা যাবে।

জানা গেছে, নতুন মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর মশা নিধনে কীটনাশক সংগ্রহে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর জোর দেওয়া শুরু হয়। এর আওতায় সম্প্রতি টেন্ডারের মাধ্যমে যাছাই-বাছাইকালেই বাদ পড়ে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা সিন্ডিকেটচক্রের প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে নতুন একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে কার্যকর ওষুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে এক লাখ লিটার কীটনাশক সংগ্রহ করে তা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়। সিটি করপোরেশনের বিশেষজ্ঞরা ছাড়াও আইইডিসিআর এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্লান্ট প্রটেকশন উইংয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ওই পরীক্ষামূলক প্রয়োগে মিলেছে আগের তুলনায় বেশিমাত্রার সাফল্য। এর ভিত্তিতে গত ১৮ অক্টোবর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে তাদের সব শাখায় উড়ন্ত মশা দমনে নতুন সরবরাহকৃত অ্যাডাল্টিসাইড ব্যবহারে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ের বাইরে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২১ জুন থেকে জলাশয় পরিষ্কার, তেলাপিয়া মাছ এবং হাঁস চাষ করা হচ্ছে। তা ছাড়া মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য জাল দিয়ে জলাশয় রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মশক ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত লোকবলের অভাবও পূরণ হয়েছে। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইডিংয়ের জন্য আটজন এবং অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ের জন্য ১০ জন করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মশক কার্যক্রম তদারকি করার জন্য ৭৫টি ওয়ার্ডে একজন করে সুপারভাইজারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারে আমার অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল নগরবাসীকে মশার প্রকোপ থেকে মুক্তি দেওয়া। গত ১৭ মে কার্যভার গ্রহণ করার দিনই মশক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দিই আমি। মশক নিধনে নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ জুন থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। ওষুধ প্রয়োগের সময় বাড়ানো, মান নিশ্চিত করা এবং সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করায় এরই মধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছে নগরবাসী।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা