kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

এক যন্ত্রেই ৪২ রোগ নির্ণয়!

পাবনা প্রতিনিধি   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাঝারি আকৃতির ব্রিফকেস সদৃশ একটি যন্ত্র, যার সংযোগ দেওয়া আছে ল্যাপটপে। যন্ত্রের ওপর হাতের তালু রাখলেই ল্যাপটপের মনিটরে ভেসে ওঠে মানবদেহের হৃদযন্ত্র, কিডনিসহ একে একে সব অঙ্গ-প্রতঙ্গ। সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্টারে বের হয়ে আসে শরীরের সব রোগের বিবরণ সংবলিত প্রতিবেদন।

অভিনব এ যন্ত্রে প্রায় এক বছর ধরে সাধারণ মানুষের রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন এম এ আকবর নামের এক ব্যক্তি। যদিও এ যন্ত্রের কথা চিকিৎসকরা কোনো দিন শোনেননি। এমনকি যন্ত্রের প্রতিবেদনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে দুর্বোধ্য। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা সদর থানার পুলিশ ‘ইউনি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আকবরকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। আকবরের বাড়ি পাবনা শহরতলির নয়নামতি এলাকায়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকবর জানান, তিনি এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি নিয়ে পড়াশোনা করে কম্পিউটারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় আর ব্যবস্থাপত্র প্রদান করে আসছিলেন। এ জন্য তিনি ইউনি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নামের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

ইউনি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের স্বাস্থ্যকর্মী ফারজানা লাবণী বলেন, ‘পরিচিত কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য আকবরের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাই। হাতের স্ক্যান পরীক্ষার জন্য এক হাজার টাকা ও ওষুধ বাবদ ৮-১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় তাদের কাছ থেকে। ওষুধের কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পরও স্বাস্থ্যের উন্নতি না হওয়ায় রোগীরা আমাকে নানা প্রশ্ন করত। এতে আমার মধ্যেও সন্দেহ তৈরি হয়।’

এদিকে হাতের স্পর্শে ৪২টি রোগ নির্ণয়ের বিষয়টি জেনে বিস্মিত হয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. সালেহ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এমন যন্ত্র চিকিৎসাবিজ্ঞানে আছে বলে আমার জানা নেই। ওই মেশিনের যে রিপোর্ট, তা দুর্বোধ্য।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা