kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

দানের টাকায় সেবার দৃষ্টান্ত

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দানের টাকায় সেবার দৃষ্টান্ত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়াবাসীর জন্য শুক্রবার থেকে নতুন ধারার সেবা চালু করেন ডা. মোরশেদ আলী।

শুধু জ্বালানি, চালকের বেতন-ভাতাদি ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে খরচ হবে, সেটা দিয়ে দরিদ্র রোগীরা অ্যাম্বুল্যান্স সেবা পাবে। রোগী হতদরিদ্র হলে বিশেষ বিবেচনায় বিনা খরচে এ সেবা পাবে। চট্টগ্রাম নগরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো রোগীর মৃত্যু হলে মরদেহ বিনা খরচে সাতকানিয়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য এমন সেবা চালু করেছেন এই উপজেলার তরুণ চিকিৎসক ডা. মোরশেদ আলী।

‘আমার অ্যাম্বুল্যান্স’ নামের এ সেবা চালু করা হয়েছে গতকাল শুক্রবার। প্রথম সেবাগ্রহীতা ছিটুয়াপাড়ার বাসিন্দা সারোয়ার জামাল (৩৩)। উদ্বোধনের পর এক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এ সেবা পেয়েছেন। তাঁর ভাই সারোয়ার কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হঠাৎ হূদরোগে আক্রান্ত হলে আমার ভাইকে কেরানীহাটের আশশেফা হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় আমরা ওই অ্যাম্বুল্যান্স সেবা পেয়েছি।’

সারোয়ার জামাল জানান, আমার অ্যাম্বুল্যান্সের সেবা নিতে তাঁদের খরচ হয়েছে এক হাজার ৮০০ টাকা। অন্য হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা লাগত।

২০৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সাতকানিয়া উপজেলাটি চট্টগ্রাম নগর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবায় প্রত্যন্ত এই এলাকায় যুক্ত হয়েছে আমার অ্যাম্বুল্যান্স সেবা। অ্যাম্বুল্যান্সটির মূল ব্যবহারকারী হবে দরিদ্র রোগীরা। ০১৮৭২৯৯২২৭৭ বা ০১৩০৪৪০০৪৯৯ নম্বরে ফোন করলেই ‘আমার অ্যাম্বুল্যান্স রোগীর দরজায় পৌঁছে যাবে।

এই অ্যাম্বুল্যান্স চালুর বিষয়ে ডা. মোরশেদ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাতকানিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক রোগী সময়মতো চট্টগ্রামে উন্নত চিকিৎসার জন্য পৌঁছতে পারে না। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে জীবনহানি হয়। এ ছাড়া দরিদ্র অনেক রোগী আছে, যারা অর্থাভাবে প্রাইভেট হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে চট্টগ্রাম নগরে পৌঁছতে পারে না। রোগীদের সময় ও অর্থাভাবের বিষয়টি চিন্তা করেই এ সেবা চালুর ধারণা মাথায় এসেছে। এতে সাতকানিয়ার মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। ফলে এই ধারণা বাস্তব রূপ পেয়েছে।’

সাতকানিয়ার পাহাড়ি এলাকা পুরানগড় ইউনিয়নে বাড়ি ডা. মোরশেদ আলীর। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক। তরুণ সার্জন হিসেবেও বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা