kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রতিরোধে আরো বেশি সক্রিয় পুলিশ সদস্যরা

দ্বিতীয় ঢেউ আসছে

এস এম আজাদ   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিরোধে আরো বেশি সক্রিয় পুলিশ সদস্যরা

করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে বাংলাদেশে সম্মুখযোদ্ধারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে পুলিশ। সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে পুলিশেরই ১৫ হাজার ১৫০ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৭৪ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতি ছাড়াই করোনায় মানবিক সহায়তায় এগিয়ে যাওয়ায় পুলিশ সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রান্ত হয়। তাই পরবর্তী সময়ে সুরক্ষাসামগ্রীসহ বিভিন্ন নিরাপত্তায় নজর  দেয় পুলিশ বাহিনী। এখন বিশ্বজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা করা হচ্ছে। দেশেও নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রস্তুতি। পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষার পর্যাপ্ত সামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি চলাচল এবং কাজের ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়েছে। সবার মতোই অ্যান্টিবডি বাড়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুলিশ সদস্যদের কিছু ওষুধও দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন করে আক্রন্তের চেয়ে সুস্থতার হারই বেশি। তাই করোনায় ফের প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি পুলিশ ভালোভাবে মোকাবেলা করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে র‌্যাবের দুই হাজার ৩৭৫ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলেও এরই মধ্যে দুই হাজার ৩৫৯ জন সুস্থ হয়েছেন। বিশেষ কৌশলে সুস্থ হয়ে ওঠা সদস্যদের দিয়েই সহকর্মীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছে র‌্যাব। এর ফলে যেমন আক্রান্তের হার কমেছে, তেমনি বেড়েছে সুস্থতার হারও। এ পদ্ধতিতেই এখন করোনা মোকাবেলা করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে পুলিশের ১৫ হাজার ১৫০ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৪৫৪ জন সুস্থ হয়েছেন। এখনো ৬২২ জন চিকিৎসাধীন। মৃত্যু হয়েছে ৭৪ সদস্যের।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি, মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোতেও ঢাকার একই চিকিৎসা প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ফলে পুলিশে মৃত্যুর হার কমে এসেছে। এ ছাড়া পুলিশ সদস্যরা যাতে করোনায় সংক্রমিত না হন, সে জন্য সব পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন ‘সি’, ‘ডি’, জিংক ট্যাবলেটসহ অন্যান্য ওষুধও সরবরাহ করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে প্রয়োজনীয় সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছাড়াই পুলিশ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে যায়। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লকডাউন বাস্তবায়ন, করোনা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, এমনকি স্বজনরা ভয় পেলেও পুলিশ সদস্যরাই করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়ে দাফন করেন। এতে ব্যাপক প্রশংসাও কুড়ায় পুলিশ বাহিনী। তবে মাঠপর্যায়ের কনস্টেবল, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), উপপরিদর্শক (এসআই), পরিদর্শক থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ক্রমেই বাড়তে থাকে আক্রান্তের হার। পরে পুলিশে সতর্কতা বাড়ানো হয়। নেওয়া হয় সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।

তবে এরই মধ্যে সম্মুখযোদ্ধাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে যায় পুলিশ। সরাসরি সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করা স্বাস্থ্য বিভাগে আক্রান্তের পরিমাণ পুলিশের প্রায় অর্ধেক (আট হাজারের বেশি)।

এদিকে র‌্যাবের সূত্র জানায়, র‌্যাবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখনো চিকিৎসাধীন ১১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। মৃতদের কেউই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাননি। আক্রান্ত র‌্যাব সদস্যদের মধ্যে যাঁরা সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাঁরাই সহকর্মীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। এই কৌশলে সংক্রমণ কমিয়ে সুস্থতার হার বাড়িয়েছে র‌্যাব। এই কৌশলই তারা অবলম্বন করে সামনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাইছে। পাশাপাশি সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য