kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে দেড় ঘণ্টা!

জহিরুল ইসলাম   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে দেড় ঘণ্টা!

‘ভাই, পুরা রাস্তা কোনোমতে চইল্লা আইতে পারলেও গুলিস্তান থেইক্কা সদরঘাটের রাস্তায় জীবনডা শেষ। সিগন্যাল শেষ হয় না। তার উপর রিকশাগুলানও সরে না। কিছু কইলে গাইল পারে। পাঁচ মিনিটের রাস্তাডা রাইত ছাড়া দেড় ঘণ্টার আগে পার হওন যায় না। বাসের লোকজনও আমারারে গাইল্লায়।’

গতকাল বুধবার দুপুরে কথাগুলো বলছিলেন মিরপুর-সদরঘাট রুটের বিহঙ্গ পরিবহনের গাড়ির হেল্পার সাহাবউদ্দিন। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট সড়কটির দুই পাশে রয়েছে শত শত দোকান। মালপত্র কেনাবেচার পর পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য দোকানের সামনের রাস্তার অর্ধেকটাই ভ্যান, ঠেলাগাড়ি, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ভ্যান, লরি দখল করে আছে। ফলে তৈরি হয় তীব্র যানজট। এ ছাড়া দোকানের সামনের ফুটপাতে মালাপত্র রাখায় পথচারীরা হাঁটার জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে নেমে আসে সড়কে। আবার কোথাও কোথাও সড়কের ওপর জমাট করে রাখা ময়লার স্তূপ। সব মিলিয়ে সড়কটি হয়ে পড়েছে চলাচলের অনুপযুক্ত।

ডিএমপি ট্রাফিক উত্তর বিভাগের জয়েন্ট কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই সড়কে রড, সিমেন্ট, স্যানিটারি ও মেশিনারি পণ্যের পাইকারি বাজার থাকায় দোকানের সামনে মালবাহী গাড়ি রাখা হয়। এ কারণে যানজট হয়। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। ভারী মালামালের দোকানদারদের এ ছাড়া উপায়ও নেই। যেখানে কাজ করা যায় সেখানে আমরা করছি। নবাবপুর সড়কটা আমরা একমুখী করে দিয়েছি। এতে ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। আর যেহেতু রিকশা চলতে বাধা নেই, তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ নেই।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে সদরঘাটমুখী সড়কের দুই পাশে রয়েছে স্যানিটারি, রড, সিমেন্ট, পাইপসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান। গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে বংশাল আলুবাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে রয়েছে প্লাস্টিকের বিভিন্ন পণ্য, পাইপ, স্যানিটারির দোকান এবং রয়েছে কিছু কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়। আলুবাজার থেকে তাঁতীবাজার মোড় পর্যন্ত লোহালক্কড়, স্টিল, স্টিলের ম্যাট পাত, লোহার পাইপ ও রড-সিমেন্টের পাইকারি দোকান। এর সঙ্গে সুরিটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ফুট ওভারব্রিজের নিচে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার স্তূপ।

বেশির ভাগ দোকানের সামনেই ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, লরিসহ নানা ধরনের যানবাহন দাঁড় করানো। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, সড়কটিতে খুব ধীরে চলছিল যানবাহন। দোকানিরা জানান, পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে ক্রেতারা কিভাবে পণ্য নেবেন? এ ছাড়া মালপত্র দোকানে আনারও বিষয় থাকে।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণির হাসান এন্টারপ্রাইজের হাসান বলেন, ‘অহেতুক কোনো গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে না। কোনো কোনো সময় ট্রাইভার বা অন্যরা খেতে যায় বলে হয়তো একটু বেশি সময় থাকে। ইচ্ছা করে মানুষকে ভোগান্তিতে কেউ ফেলে না।’

দোকানের সামনের ফুটপাত দখল করে রড রাখা এক দোকানি বলেন, ‘দোকান ছোট। তাই কিছু রড সামনে রেখেছি। এগুলো কিছুক্ষণের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হবে।’

তাঁতীবাজার থেকে রায়সাহেব বাজার মোড় পর্যন্ত রয়েছে লোহালক্কড়ের দোকান, স্টিলের তৈরি আসবাবের দোকান। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে হকার বসায় পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা