kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীকে পাশ কাটিয়ে সিডিএ নিয়োগ

পররাষ্ট্রকে ‘সর্বোচ্চ’ সতর্ক করল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

বাহরাম খান   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পররাষ্ট্রকে ‘সর্বোচ্চ’ সতর্ক করল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

প্রধানমন্ত্রীর আইনি কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে সুদানে মিশনপ্রধান নিয়োগ দেওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ‘সর্বোচ্চ’ সতর্ক করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর আগে বিষয়টি নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন আইনি দিক খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যথাযথ নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে মানতে সতর্ক করে দিয়েছে।

সরকার প্রণীত রুলস অব বিজনেস (কার্যপ্রণালী বিধি) অনুযায়ী রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিশনপ্রধান (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স-সিডিএ) নিয়োগ দিলে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৬ আগস্ট সুদানে হতে যাওয়া নতুন মিশনের সিডিএ নিয়োগ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়াই। রুলস অব বিজনেস লঙ্ঘনের কথা তুলে ধরে কালের কণ্ঠে গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাইনুল হাসানকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ নিয়োগ দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের ‘প্রথা’ অনুযায়ী। কিন্তু তাঁর নিয়োগে ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ শব্দটি ‘অসাবধানতাবশত’ যুক্ত হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পররাষ্ট্রসচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘১৯৯৬ সালে প্রণীত রুলস অব বিজনেসের নির্দেশনা যথাযথ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট বিদ্যমান আইনের উপস্থিতিতে প্রথা বা রীতিনীতি অনুসরণের কোনো সুযোগ নেই।’ চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সরকারি যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়ায় নথি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে রুল অব বিজনেসসহ অন্যান্য বিদ্যমান আইন, বিধি, পরিপত্র ও নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা সমীচীন।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘সুদানে মিশনপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে রুলস অব বিজনেস অনুসরণ করা হয়নি বলে প্রতীয়মান হয়।...সংবিধানের ৫৫(৬) নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সরকারি কার্যাবলি বণ্টন ও পরিচালনার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত রুলস অব বিজনেস-১৯৯৬ মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের আইনি কর্তৃত্ব।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সিডিএ পদটিই অন্তর্বর্তীকালীন। সেখানে সিডিএর আগে অন্তর্বর্তীকালীন শব্দ যোগ করার সুযোগ নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের ভুল স্বীকার করলেও মাইনুল হাসানের নিয়োগটি কৌশলে হালাল করার চেষ্টা করছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এ বিষয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত হয়েছেন বলে একাধিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, বিসিএস (নিরীক্ষা ও হিসাব) ক্যাডারের কর্মকর্তা মাইনুল হাসান বর্তমানে ব্রুনাইয়ের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর হিসেবে কর্মরত। সেখান থেকেই তাঁকে সুদানে নবগঠিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর ও সিডিএ হিসেবে নতুন নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয় গত ১৬ আগস্ট।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পেশাদার কূটনীতিকদের অনেকে একটি দেশের দায়িত্ব পেলে নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেন। সেখানে নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে নতুন একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য নিয়োগ দেওয়া নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।

জানা গেছে, পররাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা সুদানে যেতে চাইলেও তাঁদের পাশ কাটিয়ে মাইনুল হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যবিধি সম্পর্কিত বিষয়গুলো নির্ধারণ হয় সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রণীত রুলস অব বিজনেসের মাধ্যমে। রুলস অব বিজনেসের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৭ নম্বর রুলে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কোন কোন বিষয়গুলোয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাগবে তা উল্লেখ আছে। ৭ নম্বর রুল (শিডিউল নম্বর-৪, সিরিয়াল নম্বর-২৮) অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিনিস্টার ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নিয়োগ এবং প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ সেই দায়িত্ব পালন করেনি। উল্টো মাইনুল হাসানের নিয়োগকে বহাল রাখতে কৌশলী সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা