kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা

চার ভাগ হয়ে টাকা হাতায় প্রতারকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আপনার মোবাইলে পাঠানো টাকা পেয়েছেন কি? পেলে ক্যাশ-আউট করেছেন কি না? আসলে দোকান থেকে একই সময়ে কয়েকটি নম্বরে টাকা পাঠানোতে একটু সমস্যা হয়ে গেছে। তাই কয়েকটি নম্বরের সঙ্গে আপনার নম্বরও লক হয়ে গেছে। আপনাকে অ্যাকাউন্টটি অফিস থেকে ফোন করে আনলক করে দেবে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকানি পরিচয় দিয়ে শুরুতে এমনভাবেই কথা বলেন প্রতারকচক্রের সদস্যরা। কিছুক্ষণ পর আরেকটি গ্রুপ এলাকার নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এটি অন্য গ্রুপের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তৃতীয় গ্রুপ নিজেকে নির্দিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ার অফিসার পরিচয় দেয়। অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অফিসের নম্বর ক্লোনিং করে ফোন দেওয়ায় গ্রাহক সহজে বিষয়টি বুঝতে পারে না। ফোনে বিভিন্ন কথার ছলে ওটিপি এবং পিনকোড নিয়ে নেয়। এরপর গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এবং অ্যাকাউন্ট আনলক করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনটাই জানিয়েছেন ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন।

গত শুক্রবার রাজধানী ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণাচক্রের প্রধানসহ ৯ জনকে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। আটক ব্যক্তিরা হলেন সাইফুল ইসলাম (২২), লিটন হোসেন (২৩), জুবায়ের শেখ (২২), গোলাম কিবরিয়া মণ্ডল (১৯), ইমরান মোল্লা (২৩), শাওন হোসাইন মণ্ডল (১৮), মিনজারুল ইসলাম মোল্লা (২৫), আশরাফ মোল্লা (২৬) ও সাগর আহম্মেদ (২৫)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের পাঁচটি মোবাইল ফোন, ১০টি সিমকার্ড ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

ওয়ালিদ হোসেন জানান, প্রতারকচক্রের সদস্যরা প্রধানত চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতারণা কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে থাকে। প্রথম গ্রুপ মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকানে টাকা পাঠানোর কথা বলে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে লেনদেনকৃত খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে এলাকা উল্লেখ করে পাঠিয়ে দেয়। খুব কৌশলে তারা প্রতারণা করে থাকে। এভাবে হাতিয়ে নেওয়া টাকা বিভিন্ন হাত বদল করে ক্যাশ আউট করে, ফলে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ডিএমপি সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা