kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বন্দরে সাংবাদিক খুন

মাদক ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ করায় টার্গেট

৮ জনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা গ্রেপ্তার ৩ জন রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাদক ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ করায় বন্দরে সাংবাদিক ইলিয়াস শেখকে খুন করা হয়েছে—এমন তথ্যই উঠে এসেছে স্থানীয় সূত্রে। ইলিয়াসের পরিবারের করা মামলার অভিযোগেও এমনটা বলা হয়েছে। কিছুদিন ধরেই স্থানীয় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী, যারা মাদক কারবার ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ সিন্ডিকেট চালায়, তাদের রোষানলে ছিলেন ইলিয়াস। যার পরিণতিতে তিনি টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন।

ইলিয়াসকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার সকালে বন্দর থানায় মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম। পুলিশ এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গত রবিবার রাতে ঘটনার পরপরই পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় এলাকার সন্ত্রাসী তুষারকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে মিনা (৬০) ও মিছির আলী (৫৩) নামের আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এঁরা তিনজনই ইলিয়াসের স্ত্রীর করা মামলার আসামি। এর মধ্যে তুষার প্রধান আসামি। অন্য আসামিরা হলেন হাসনাত আহমেদ তুর্য, মাসুদ, সাগর, পাভেল ও হজরত আলী। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে গতকাল বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াছমিন তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।

সাংবাদিক ইলিয়াছ হত্যার প্রতিবাদে বন্দরের জিওধারা বাজারে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের জিওধারা, আদমপুর ও কল্যান্দি—এই তিন এলাকায় মাদক কারবার চলত অনেকটা প্রকাশ্যেই। এ ছাড়া বাড়ি বাড়ি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিতেন তুষার ও তুর্য। তুষারের নেতৃত্বে ওই এলাকায় মাদক ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের একটি সিন্ডিকেটও গড়ে ওঠে। এসব নিয়ে স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক বিজয়-এ রিপোর্ট করেন ইলিয়াস। আর অবৈধ গ্যাস সংযোগের দায়ে তুষার পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন। সে কারণে ওই সিডিকেট ইলিয়াসের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এ ছাড়া এলাকার বিভিন্ন অপকর্ম ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অন্য পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও ইলিয়াসকেই সন্দেহ করা হতো। এসব কারণেই ইলিয়াসকে টার্গেট কিলিং করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা