kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ মাঘ ১৪২৭। ২৬ জানুয়ারি ২০২১। ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মেরিন ফিশারিজ একাডেমিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ

ঘাট, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাসের পর মাস সরকারি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এসব অনিয়ম। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার মদদে এসব অনিয়ম চলায় প্রতিবাদ করার সাহস পান না ওই সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

১৯৭২ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর কোলে গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমি। সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এখন চলছে জমজমাট বাণিজ্য। তবে এই বাণিজ্য থেকে সরকার কোনো রাজস্ব না পেলেও শীর্ষ কর্মকর্তারা ঠিকই ‘লাভ’ তুলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একাডেমির পূর্ব সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে বড় প্লাস্টিকের পানির ট্যাংক। সঙ্গে রয়েছে একটি দোকান। এই পানির ট্যাংক থেকে পানি বিক্রি হয় নদীতে ভাসমান নৌকা এবং বড় বড় জাহাজে। বিক্রি হওয়া ওই পানির উৎসের খোঁজ নিতে গিয়ে বের হয়ে আসে মেরিন ফিশারিজ একাডেমির নানা অনিয়ম। ওই ট্যাংকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি থেকে। পানি সরবরাহের জন্য সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে লাগানো হয়েছে পাইপলাইন। প্রাচীর ফুটো করে সেই লাইন থেকে ওই ট্যাংকে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পানির ট্যাংকের পাশে থাকা দোকানদার কর্ণফুলী নদীতে ভাসমান নৌকা ও জাহাজে পানযোগ্য পানি বিক্রি করেন। বিভিন্ন জাহাজে পানযোগ্য পানি বেচা হয় প্রতি ড্রাম ৪০০ টাকা দরে। এ ছাড়া মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ঘাটে বাঁধা রয়েছে একাধিক ফিশিং ট্রলার। কর্ণফুলী নদীতে চলাচলকারী সাম্পান মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা শুরুর প্রথম থেকে এসব ট্রলার এই ঘাটে বাঁধা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কর্ণফুলী শিপইয়ার্ডের মালিক ইঞ্জিনিয়ার রশিদের মালিকানাধীন সব জাহাজ এবং ফিশিং ট্রলার সব সময় বাঁধা থাকে এই ঘাটে। ট্রলারগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। এই কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি থেকে। এ ছাড়া জাহাজের নাবিকদের জন্য পানযোগ্য পানিও সরবরাহ হচ্ছে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি থেকে। 

বিভিন্ন ফিশিং ট্রলার কম্পানির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর কোনো ঘাটে একটি ফিশিং ট্রলার নোঙর করতে হলে সেই ঘাট মালিককে দৈনিক পাঁচ হাজার টাকা ঘাটভাড়া দিতে হয়।

মেরিন ফিশারিজ একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, একাডেমির দুটি গেস্ট হাউসে প্রায় প্রতিদিনই অতিথিদের যাতায়াত রয়েছে। এই অতিথি কারা? তা জানার অধিকার নেই একাডেমির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর। শীর্ষ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই গেস্ট হাউসগুলো ব্যবহার করেন অতিথিরা।

অভিযোগের বিষয়ে মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদ বলেন, ‘মেরিন ফিশারিজের ঘাট ব্যবহারের জন্য কোনো ভাড়া নেওয়া হয় না। ইঞ্জিনিয়ার রশিদের ফিশিং ট্রলারের ক্ষেত্রেও কোনো ভাড়া নেওয়া হয়নি। তিনি আমাদের একাডেমির সাবেক ক্যাডেট। তিনি আমাদের একাডেমির উন্নয়নে সহযোগিতা করেন। তাই আমরা তাঁকে একাডেমির ঘাট ব্যবহার করতে অনুমতি দিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘একাডেমির পাশের এলাকাবাসী এবং নদীতে চলাচলকারী গরিব মাঝি-মাল্লাকে পানযোগ্য পানি সরবরাহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। এটা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে করা হয়। এ ছাড়া জাহাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ার রশিদের কাছ থেকে বিল নেওয়া হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা