kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন চলবে

ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার গোটা দেশ। মাঠে নেমেছেন সংস্কৃতি কর্মীরাও। গতকাল জাতীয় জাদুঘরের সামনে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংশোধিত ‘নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২০’-এর খসড়া গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঘোষিত ৯ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে বিক্ষোভ-কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত বাম ছাত্রসংগঠনগুলো। আগামী ১৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচিও পালন করা হবে। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় এ কথা জানিয়েছেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে গতকাল বিকেলে শাহবাগে সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও নাটকের মাধ্যমে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

গতকাল বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে কালের কণ্ঠকে অনিক রায় বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য হচ্ছে ধর্ষণের শাস্তি নিশ্চিত করা। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার একক দাবি আমাদের ছিল না। শুরু থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্ষণের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করা।’

মৃত্যুদণ্ড দিয়ে কখনো ধর্ষণের মতো অপরাধ সমাজ থেকে নির্মূল করা যাবে না জানিয়ে অনিক বলেন, ‘এটা সামাজিক সমস্যা। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এটি রোধ করতে হবে। তাই সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আমরা মেনে নিতে পারছি না।’ তিনি যোগ করেন, ‘এর আগে দেশে অনেক আইন হয়েছে। তবে আইনের বাস্তবায়ন সঠিকভাবে না হওয়ায় নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে না। তাই আইন নয়, ধর্ষণের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করব আমরা। ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন চলবে। আমাদের দাবি বাস্তবায়িত হলেই শুধু আমরা আন্দোলন স্থগিত করব।’

আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, ধর্ষণ রোধ করতে হলে গণজাগরণের বিকল্প নেই। ধর্ষণ নিয়ন্ত্রণে না আসার মূল সমস্যা বিচারহীনতা।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, আন্দোলনের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা এক ধরনের ‘আই ওয়াশ’। মূল সমস্যাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ধর্ষণ ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে গত ৫ অক্টোবর থেকে টানা অষ্টম দিনে গতকাল শাহবাগে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। ধর্ষণের বিরুদ্ধে গতকালও রাজধানীর ধানমণ্ডি, মিরপুরসহ আরো কয়েকটি এলাকায় পৃথক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা-ধর্ষণ-খুন বন্ধ এবং সব ধর্ষণের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সমাবেশ করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বক্তব্য দেন ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূইয়া, বাসদের (মার্ক্সবাদী) আ ক ম জহিরুল ইসলাম, সিপিবির সেকান্দার হায়াত, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক ও বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতারা। গতকাল দুপুর বিক্ষোভ মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বক্তব্যে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমরা ধর্ষণ, নিপীড়ন, গুমমুক্ত দেশ চাই।’

সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

উত্তরায় ধর্ষণকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন : গতকালও রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ধর্ষণকারীদের বিচার ও সাত দফা দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে তারা। ধর্ষণকারীদের বিচারের দাবিতে অষ্টম দিনের মতো রাস্তায় নামল শিক্ষার্থীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা