kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সুদীপ্ত হত্যা মামলা

এজলাসের বাইরে আসামির ওপর হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এজলাসের বাইরে আসামির ওপর হামলা

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলায় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেওয়া আসামি মোক্তার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর জামিনে মুক্ত থাকা মোক্তার এজলাসকক্ষের বাইরে পা রাখা মাত্রই বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়েছেন। গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

মোক্তারকে মারধরের সময় হামলাকারীরা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে স্লোগান দেয়। পুলিশকে এ সময় কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ‘সন্ত্রাসীদের’ নিবৃত্ত করতে আদালত পুলিশ ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো এজলাসকক্ষে বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক-ন্যক্কারজনক ঘটনা। এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে।’

আইনজীবীদের এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় মারধরের ঘটনায় ধারণকৃত ভিডিও চিত্রে। সেখানে পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি। অথচ এজলাসকক্ষেই ছিল তারা। পাশের অন্য আদালতের এজলাসেও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হামলায় মোক্তারসহ তিনজন আহত হন। তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহত মোক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

মামলার এজহারে মোক্তার হোসেন উল্লেখ করেছেন, পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী তিনি সোমবার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে সুদীপ্ত হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে যান। হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন হানিফ (৩৭), মো. ওয়াসিম (৩৩), রাবেয়া বেগম (৪৪), মো. আমির হোসনে প্রকাশ বাবু (২৬), খায়রুল নুর ইসলাম খায়ের (২৬), ফয়সাল আহম্মেদ পাপ্পু (২৬), মো. জাহেদ (২৮), আইনুল কাদের চৌধুরী নিপুসহ (৩২) ১৫ থেকে ২০ জন তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।

মোক্তার হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, ঘটনার পরপরই তিনি আদালতে গিয়ে বিচারককে মারধরের বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর আদালত তাঁকে কোতোয়ালি থানায় গিয়ে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। কোতোয়ালি থানা মামলা না নিলে আদালতে মামলার পরামর্শ দেন।

তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা সবাই লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ‘বড় ভাই’ খ্যাত দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারী। আহতরা ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেলালের অনুসারী। মোক্তার দাবি করেন, ‘আমি সুদীপ্ত হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় আমার ওপর তারা ক্ষিপ্ত হয়েছে। এ কারণে হামলা চালিয়েছে। আমি সুদীপ্ত হত্যার ন্যায়বিচার চেয়েছি, সেটাই আমার অপরাধ।’

উল্লেখ্য, এ দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, সরকারদলীয়দের মধ্যে সংঘাত হওয়ায় পুলিশও সেদিকে খুব বেশি নজর দেয় না।

গতকাল মারামারির সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ্ত হত্যা মামলার আসামি মোক্তার হোসেনের আইনজীবী শাহেদুল আজম। তিনি বলেন, ১০ জন আসামি আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। হাজিরা দিয়ে এজলাসকক্ষ থেকে বের হওয়ার পরপরই ২০-২৫ জন লোক মোক্তারকে টানাহেঁচড়া শুরু করে। হাজিরা দেওয়া কয়েকজন আসামি ও মোক্তারের বন্ধুরা তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে মোক্তারকে।

কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা জানান, মোক্তার হোসেনের দায়ের করা অভিযোগ এজহার হিসেবে গণ্য করে পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর সকালে নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার এলাকার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাসকে। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস সদরঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি এখন তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।

আদালতে মারামারির ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ট্রেনিংয়ের প্রয়োজনে ঢাকায় আছি। পরে শুনেছি মারামারি হয়েছে। তবে পুরো ঘটনা জানি না।’

সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলায় ‘বড় ভাই’ দিদারুল আলম মাসুমকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পিবিআই। পরে তিনি জামিন পান। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নির্দেশদাতা হিসেবে মাসুমের নাম বলেছেন। গতকাল মারামারির পর মাসুমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

হামলার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) এন এম নাসিরুদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদালতে পুলিশ নিরস্ত্র অবস্থায় স্বাভাবিক কাজকর্ম করে। তার পরও খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ মারামারির সঙ্গে জড়িতদের নিবৃত্ত করতে এগিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত ফোর্স এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’ পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা