kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

বেনাপোল সীমান্তে বেড়েছে মাদক ও নারী পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেনাপোল সীমান্তে বেড়েছে মাদক ও নারী পাচার

যশোরের বেনাপোল-শার্শা সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র, সোনা, মাদক ও নারী-শিশুপাচারের খবর নতুন নয়। এবার একই রুটে দেদার অপ্রচলিত মাদক পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে নারী ও শিশু পাচার। এ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসে অস্ট্রেলিয়ায় পাচারের সময় আটক মাদক অ্যামফিটামিনের চালানটি বেনাপোল-শার্শা সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশে আসে। পুরান ঢাকার মিটফোর্ডের রাসায়নিক (কেমিক্যাল) ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বান্টি মিথ্যা ঘোষণায় চালানটি আনেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বান্টিকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে তথ্য পেয়েছে, মিটফোর্ডের কয়েকজন ব্যবসায়ী একইভাবে মাদকের উপাদান নিয়ে আসছেন। কলকাতার কয়েকজন কারবারি এসব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছেন। আর সীমান্তপথে সোনা ও মাদক চোরাচালানে ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদের। বেনাপোল বন্দর ও আশপাশের এলাকা দিয়ে নারী-শিশুপাচারও বেড়েছে।

একাধিক সূত্র জানায়, বেনাপোল-শার্শা সীমান্তের কায়বা, রুদ্রপুর, গোগা, অগ্রভুলাট, পাঁচভুলাট, শালকোনা, পাকশিয়া, ডিহি, গোড়পাড়া, পুটখালী, দৌলতপুর, গাতিপাড়া, সাদিপুর, রঘুনাথপুর, ঘিবা ও ধান্যখোলা এলাকায় পাচারকারীরা বেশি সক্রিয়। এর মধ্যে পুটখালী সীমান্ত মানবপাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এ ধরনের তথ্য পেয়ে বেনাপোল ও ঢাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে তল্লাশি করে ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম অ্যামফিটামিন জব্দ করে ডিএনসি। তদন্তের সূত্র ধরে গত ৪ অক্টোবর জুনায়েদ ইবনে সিদ্দিক নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদপুরের বসিলায় তাঁর বাড়িতেই ভাড়া থাকতেন ভারতের তামিলনাড়ুর সতীশ কুমার তীলভারত। তাঁর মাধ্যমেই অ্যামফিটামিন মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়েন জুনায়েদ ও তাঁর সহযোগীরা। বিমানবন্দরে চালান ধরা পড়লে দুবাইয়ে পালিয়ে যান সতীশ।

তদন্তকারী সূত্র জানায়, জুনায়েদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর মিটফোর্ডের ‘কালাম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের’ মালিক বান্টিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত শনিবার তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বান্টি জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কলকাতার রাজ খান ও আঙ্কিত নামের দুজনের কাছ থেকে তিনি ২০ কেজি অ্যামফিটামিন নিয়ে আসেন। ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা কেজি দরে এর পুরোটাই তিনি জুনায়েদের কাছে বিক্রি করেছেন।

সূত্র মতে, মিয়ানমার ছাড়াও চীন ও ভারতে অ্যামফিটামিন তৈরি হয়। মাদক হিসেবে এটি মূল্যবান হয়ে উঠছে ইয়াবার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের কারণে। তদন্তকারীরা তথ্য পেয়েছেন, বান্টি ছাড়াও কয়েকজন অ্যামফিটামিনসহ মাদকদ্রব্য নিয়ে আসছেন বেনাপোল বন্দর দিয়ে। পরে এগুলো বিদেশে পাচার করছে ভিন্ন চক্র।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রোর উপপরিচালক (দক্ষিণ) মানজুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয়েকজন পাচারকারী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার হয়েছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে জানানো হবে।’

এদিকে গত আগস্ট মাসে ঢাকা থেকে এক কিশোরীকে ফুসলিয়ে বেনাপোলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও পাচারের চেষ্টার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। চক্রটির হোতা মহেমুনুজ্জামান ওরফে প্রতীক খন্দকার ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তারের পর তথ্য মেলে, চক্রটি এর আগে ৩০ জনকে পাচার করেছে।

অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, চক্রটি প্রথমে নারী ও শিশুদের টার্গেট করে। পরে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে পাচার ও দেহব্যবসায় বাধ্য করে। এদের পাচারের রুট বেনাপোল স্থলবন্দর।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২ মার্চ একইভাবে ভারতে পাচার হওয়া ১০ শিশু-কিশোরীকে ফেরত আনা হয়। যশোরের অভয়নগর উপজেলার এক কিশোরীকে একইভাবে ভারতে পাচারের পর দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়। গত বছরের ১০ মার্চ পুটখালী সীমান্ত ঘাট দিয়ে কুষ্টিয়া ও চাঁদপুরের দুই তরুণীকে ভারতে পাচারের আগে ছয়জনের সংঘবদ্ধ দল ধর্ষণ করে।

পুলিশ ও বিজিবি সূত্র জানায়, নারীদের ব্যবহার করে মাদক ও সোনা পাচারের ঘটনা বেড়ে গেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর বাগআঁচড়া তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ শার্শার রাড়িপুকুর গ্রাম থেকে ফেনসিডিল পাচারের সময় রিপন হোসেনের স্ত্রী কাকলী বেগমকে গ্রেপ্তার করে। ২৯ সেপ্টেম্বর ১৩ পিস সোনার বারসহ (এক কেজি ৫২৬ গ্রাম) পুটখালীর পশ্চিমপাড়ার কামালের স্ত্রী পপিকে আটক করে বিজিবি।

বেনাপোল বন্দর থানার ওসি মামুন খান বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের পর থেকে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে এই থানায় মাদক উদ্ধারের এত রেকর্ড নেই।’

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বেনাপোল সদর ক্যাম্পের সুবেদার হান্নান মিয়া জানান, গত এক বছরে ১৩টি পিস্তল, ২৪টি ম্যাগাজিন, ৫৮টি গুলি, ২৫ দশমিক ৪১ কেজি সোনার বার, ২০ হাজার ৮২৭ বোতল ফেনসিডিল, ৫৪৭ কেজি গাঁজা, ৪০৬ বোতল মদ, ৫৬৭ পিস ইয়াবা ও ৪০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার এবং ২০১ জনকে আটক করেছে বিজিবি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা