kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

বরিশালে চার শিশুর নামে করা ধর্ষণ মামলা স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশালে চার শিশুর নামে করা ধর্ষণ মামলা স্থগিত

বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় চার শিশুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই চার শিশুকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিতে বাকেরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইন অনুসরণ না করে চার শিশুর বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া ও তাদের গ্রেপ্তার করার বিষয়ে আগামী ২২ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেছেন আদালত।  

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। ওই চার শিশু ও তাদের অভিভাবক, শিশুদের জামিন না দিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশদানকারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বাকেরগঞ্জ থানার ওসি, থানার শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রবেশন কর্মকর্তার বক্তব্য শোনার পর আদালত এই আদেশ দেন। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন না করায় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ভর্ত্সনা করেন আদালত। 

দুই বিচারপতি প্রথমে গতকাল সকাল ১১টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চার শিশুকে খাসকামরায় নিয়ে তাদের কথা শোনেন। পরে এজলাসে বসে ওই চার শিশুর অভিভাবক, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহ, বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম, থানার শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা এসআই বশির উদ্দিন খান ও বরিশালের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজের বক্তব্য শোনেন ও তা রেকর্ড করেন।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আদালত শিশু আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এ সময় আদালত তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি কি পুলিশকে ভয় পান? পুলিশের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করেছেন। আপনি পুলিশের ফরোয়ার্ডিং দেখে তাতে সিল মেরে দিলেন। আপনি কি সিলমারা কর্মকর্তা, নাকি বিচারক? আপনার মতো তথাকথিত বিচারকের কারণে আজ ওই চার শিশুর ওপর যে ঝড় গেল, তা কি সহজে ওরা কাটিয়ে উঠতে পারবে? এরপর ওই চার শিশুকে পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহ আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।

প্রসঙ্গত, ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে আসামি করে গত ৬ অক্টোবর মামলা করা হয়। এ মামলায় ওই দিনই চার শিশুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহ এক আদেশে ওই চার শিশুকে যশোর পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর তাদের যশোর পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে তা বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আসে গত ৮ অক্টোবর রাতে। এরপর রাতেই বিচারপতিদ্বয় নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে ভার্চুয়াল আদালত বসিয়ে আদেশ দেন। চার শিশুর জামিনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বরিশালের শিশু আদালতের বিচারকের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি চার শিশুকে তাদের অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দিতে বলা হয়। পরদিন সকালেই চার শিশুকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় প্রশাসন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা