kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

ডিএসসিসির ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড

আ. লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অভিযোগের মধ্যে আজ ভোট

জহিরুল ইসলাম   

১০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘হুনছি ১০ তারিখ ভোট হইবো। তয় আমরা হুনলেই কী, আর না হুনলেই কী? চেয়ারম্যানরা (কাউন্সিলর) প্রার্থী হইবো। এরপর পাস কইরালাইবো। এইডা আমরা ভোটত যাইলেও হইবো আর না যাইলেও হইবো।’ গত বৃহস্পতিবার কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের তনুগঞ্জ লেনের বাসিন্দা ওসমান মিয়া।

আজ শনিবার ১০ অক্টোবর এ ওয়ার্ডে উপনির্বাচনে ভোট নেওয়া হবে। তবে ওসমানের মতো বেশির ভাগ ভোটারের এ নিয়ে আগ্রহ নেই। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে এলাকা ঘুরে প্রার্থীদেরও তেমন প্রচার দেখা যায়নি। ব্যতিক্রম একজন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মিজানুর রহমানের (রেডিও মার্কা) ব্যানার-ফেস্টুনে এলাকা ছেঁয়ে আছে। বাকি প্রার্থীদের অভিযোগ, ভয়ভীতি দেখানোসহ পোস্টার ছিঁড়ে ফেলায় অন্য কারো প্রচার চোখে পড়ছে না।

অন্য প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি সমর্থিত আক্তার হোসেন (ঘুড়ি মার্কা), দুই বিদ্রোহী প্রার্থী সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদুর রহমান খাঁন টিপু (ব্যাডমিন্টন মার্কা) ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা মশিউর রহমান খাঁন নিপু (ঠেলাগাড়ি মার্কা)।

এলাকাবাসী জানান, নাগরিক সুবিধার অপ্রতুলতায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়। ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ, যানজট এবং মশার উপদ্রব লেগেই আছে। খেলার মাঠটি অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী।

বিএনপি প্রার্থী আক্তার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘এলাকায় থাকতে পারি না। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভয়ভীতি আর পুলিশের বাধার মুখে কোনো প্রচার চালাতে পারিনি।’

বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুর রহমান খাঁনও প্রায় একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘মিটিং-মিছিল করতে দেয় নাই। মাইক ভেঙে ফেলছে।’ নির্বাচন কমিশন ও থানাকে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। আরেক প্রার্থী মশিউর রহমান খাঁনের ছেলে সাকিব জানান, নির্বাচনের কাজ সেভাবে করা হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিদ্রোহীরা অহেতুক মিথ্যাচার করছেন। আর বিরোধী দলের সমর্থকরা তো করবেই।’ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং’ অবস্থা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

দক্ষিণের ১.৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ওয়ার্ডটিতে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। ২১ হাজার ভোটার তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

সব শেষ অনুষ্ঠিত ডিএসসিসি নির্বাচনের সময় ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট পিছিয়ে যায়।

মন্তব্য