kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য খাতে দুদকের অনুসন্ধান

টেন্ডারের তথ্য চেয়ে দুই হাসপাতালকে চিঠি

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে গত ১২ বছরে এমএসআর সামগ্রী হিসেবে পরিচিত ওষুধ, যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী এবং নন-এমএসআরসহ বিভিন্ন খাতে টেন্ডারের সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রধান সরকারি এই দুই হাসপাতালে এই সময়ে ৬০০ কোটি থেকে ৬৫০ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগ আছে, রোগীদের চিকিৎসাসেবায় বরাদ্দ করা এসব টাকা খরচে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনায় প্রথমেই নাম আসছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ও বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর। বলা হচ্ছে, তিনি এই দুই হাসপাতালের সব টেন্ডারের নিয়ন্ত্রক। হাসপাতাল দুটির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেটের কবজায় থাকে সব টেন্ডার। ডা. ফয়সালের মনোনীত কয়েকজন ঠিকাদারই এক যুগ ধরে কাজ করছেন। এখানে বাইরের কেউ কাজ করতে পারছেন না। 

দুদক দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমে গত রবিবার হাসপাতাল দুটিকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে চমেক হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম, বর্তমান সহকারী পরিচালক ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, টেন্ডার শাখার কর্মচারী রেকর্ডকিপার মো. মাঈনুদ্দিন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজাহান, ওয়ার্ড মাস্টার রাজীব দে এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) মোহাম্মদ ফোরকানের ব্যক্তিগত তথ্য-নথিও তলব করেছে। দুদকের এই চিঠির খবরে গতকাল মঙ্গলবার দুই হাসপাতালে টেন্ডার বাণিজ্যের হোতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-২-এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। দুই হাসপাতালে গত ১২ বছরের টেন্ডার সম্পর্কিত যাবতীয় নথিপত্র তলবের বিষয়ে জানতে চাইলে গত সোমবার তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’

তবে নাম প্রকাশ না করে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথমে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে চমেক হাসপাতাল এবং ১০ অক্টোবরের মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে তথ্য-উপাত্ত দাখিল করতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হবে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক উপপরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টেন্ডারে এত দিন কোন কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, টেন্ডারপ্রক্রিয়া, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানায় কারাসহ বিভিন্ন তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের এখানে টেন্ডার শাখায় দায়িত্বরত একজনের (কর্মচারীর) ব্যক্তিগত তথ্য চেয়েছে দুদক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা