kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিচারককে হুমকি বিচারকাজই বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিচারককে হুমকি বিচারকাজই বন্ধ

বিচারক নিয়মের কথা বললেন আর আইনজীবী তা মানার পরিবর্তে বিচারককে হুমকি দিয়ে আদালতের কার্যক্রমই বন্ধ করে দিলেন। গত সোমবার রাজশাহীর বাগমারা সহকারী জজ আদালতে এমন ঘটনাই ঘটেছে। এই ঘটনায় আইনজীবী আলী আকবর প্রামাণিকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিচারক মারুফ আল্লাম।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার নথি দেখার নাম করে প্রায়ই নথিতে কাটাছেঁড়া করা, নথির পাতা গায়েব করে দেওয়া, কজলিস্টের পাতা ছিঁড়ে নেওয়াসহ বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের সমস্যার সমাধানে বাগমারা সহকারী জজ আদালতের বিচারক নিয়ম করেন, আদালতে একজন স্টাফের উপস্থিতিতে নথি দেখতে হবে।

গত সোমবার আদালতের কার্যক্রম চলাকালে রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আলী আকবর সংশ্লিষ্ট মামলার নথি দেখতে চান। এ সময় তাঁর হাতে নথি তুলে দিয়ে বিচারক নথি দেখার নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। নিয়ম পালনে তিনি সব আইনজীবীর সহযোগিতা চান। কিন্তু হঠাৎ আলী আকবর চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘পিয়নের উপস্থিতিতে আমি কোনো নথি দেখব না।’ আওয়ামীপন্থী ওই আইনজীবী বিচারককে আরো বলেন, ‘আমি কে, আপনি চেনেন? আপনি জানেন, আমি কে? আমি কেবল একজন অ্যাডভোকেটই নই। আমি আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

এই হুমকি দিয়ে আলী আকবর আদালত ছেড়ে বের হওয়ার উদ্যোগ নেন, সেই সঙ্গে অন্য আইনজীবীদেরও ধমক দিয়ে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর হুমকি উপেক্ষা করে যাঁরা বসে ছিলেন, তাঁদের শাসাতে থাকেন আলী আকবর। এ সময় বাকি আইনজীবীরাও আদালত ছেড়ে বেরিয়ে যান। ফলে বন্ধ হয়ে যায় বিচারকাজ।

বিচারক মারুফ আল্লাম গতকাল মঙ্গলবার আলী আকবরের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আইন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। আদালত অবমাননা মামলা করার প্রস্তুতিও চলছে বলে তিনি জানান।

বাগমারা সহকারী জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ওই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘নথি পরিদর্শনের সময় আদালতের একজন স্টাফ সঙ্গে রাখাটা আইনেরই বিধান। এ জন্য বিচারককে হুমকি, জোরপূর্বক আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করা এবং আদালতের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ করা আদালত অবমাননা ও ফৌজদারি অপরাধ। এর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি, ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে অ্যাডভোকেট আলী আকবরের ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করো তাঁকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা