kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ওসমানী বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে

সিলেট অফিস   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে যাচ্ছে। বিমানবন্দর সম্প্রসারণে দুই হাজার ৩০৯ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরের আয়তন তিন গুণ বাড়বে। বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা আছে।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী জানিয়েছেন, আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে বিমানের সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালু হবে। শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ হবে। এই বিমানবন্দর সিলেটবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর একটা উপহার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এমপির সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

জানা গেছে, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ৩৪ হাজার ৯১৯ বর্গমিটারের আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন। এই টার্মিনালে আটটি বিমান একসঙ্গে যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে। এর বাইরে ছয় হাজার ৮৯২ বর্গমিটারের কার্গো ভবন, দুই হাজার ৪১৫ বর্গমিটারের ফায়ার স্টেশন, দুই হাজার ৭৭২ বর্গমিটারের কন্ট্রোল টাওয়ার, এক হাজার ৩৯৫ বর্গমিটারের প্রশাসনিক ভবন, ৬০৬ বর্গমিটারের মেইনটেন্যান্স ভবন, দুই হাজার ৫২৪ বর্গমিটারের ইউটিলিটি ভবন এবং ৯ হাজার ২৯৯ বর্গমিটারের মধ্যে আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান সুবিধাসহ আরো সুপরিসর ছয়টি উড়োজাহাজ পার্কিং উপযোগী ৭১ হাজার ৭৪৩ বর্গমিটার এপ্রোন নির্মাণ, এপ্রোনের সংযোগকারী ট্যাক্সিওয়ে, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রসহ ফুয়েল ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড হাইড্রেন্ট সিস্টেমসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মিত হবে।

বিমান সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদ্যমান প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের যে আয়তন আছে তার তিন গুণেরও বেশি আয়তন নিয়ে তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন টার্মিনাল। বিদ্যমান টার্মিনালে বছরে মোট ছয় লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া যায়। নতুন টার্মিনালের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে (২০৪০ সাল পর্যন্ত) বছরে ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিকমানের যাত্রীসেবা প্রদানের জন্য ভবনে থাকবে ছয়টি বোর্ডিং ব্রিজ (ডাবল ডকিং দুটি, সিঙ্গেল ডকিং দুটি), কনভেয়ার বেল্টসহ ৩৬টি চেক-ইন-কাউন্টার, যার মধ্যে দুটি স্বয়ংক্রিয়, বহির্গামী ও আগমনী যাত্রীদের জন্য মোট ২৪টি পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টার, ছয়টি এস্কেলেটর, ৯টি লিফট এবং আগমনী যাত্রীদের জন্য তিনটি লাগেজ কনভেয়ার বেল্ট, ভবনের ফ্লোরে বসবে ইঞ্জিনিয়ারড স্টোন। নতুন টার্মিনালের প্রথম তলা আগমনী যাত্রীদের এবং দ্বিতীয় তলা বহির্গামী যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হবে। শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে আগত যাত্রী টার্মিনালের চেক-ইন লেভেলে পৌঁছে যাবেন। আবার বিদেশ থেকে আগত যাত্রীরা প্রথম তলা থেকে বিমানবন্দর ত্যাগ করে সারফেস রোড ব্যবহার করে শহরের যেকোনো প্রান্তে যেতে পারবেন। টার্মিনাল অভিমুখী বা বহির্মুখী সব যানবাহন চলাচল হবে একমুখী, যা বিমানবন্দর অংশকে সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত রাখবে।

মন্তব্য