kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রংপুরে সেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে মা-ছেলের মৃত্যু

শফিকুলকে বাঁচাতে প্রথমে ছোট ভাই, পরে ঝাঁপিয়ে পড়েন মা

রংপুর অফিস   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক রাতের স্মরণকালের বৃষ্টিতে রংপুর নগরে জমে থাকা (জলাবদ্ধতা) পানিতে ডুবে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জুম্মাপাড়া এলাকায় কেডি ক্যানেলে (খাল) মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মৃতরা হলেন নগরের শালবন মিস্ত্রিপাড়ার সবজিবিক্রেতা জমির উদ্দিনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪৮) ও আট বছরের ছেলে রিপন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রংপুরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জলাবদ্ধতায় মিস্ত্রিপাড়া থেকে জুম্মাপাড়া যাওয়ার প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা হাঁটুপানিতে ডুবে আছে। এর মাঝে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে নিচু এলাকা হওয়ায় পানি থইথই করছে। বিকল্প রাস্তা দিয়ে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয় বলে লোকজন মাত্র চার ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। রাস্তার একপাশে কেডি খাল। গতকাল দুপুরে মা রোকেয়া বেগম ছোট ছেলে রিপনকে সঙ্গে নিয়ে সেই রাস্তায় হাঁটুপানি মাড়িয়ে মাদরাসাপড়ুয়া বড় ছেলে শফিকুল ইসলামকে (১২) নিতে পাশের নিউ জুম্মাপাড়া করিমিয়া মাদরাসায় যান। সেখান থেকে মা ও দুই ছেলে একই পথে বাসায় ফেরার সময় আলহেরা স্কুলের কাছে শফিকুল পা পিছলে খালের গভীর পানিতে পড়ে যায়। রিপন বড় ভাইকে উদ্ধার করতে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লে সেও ডুবে যায়। এ সময় মা রোকেয়া দুই ছেলেকে উদ্ধার করার জন্য পানিতে ঝাঁপ দেন। শফিকুল কোনো রকমে উঠে আসতে সক্ষম হলেও রোকেয়া ও রিপন খালের পানিতে তলিয়ে যায়। এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল তাঁদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শফিকুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরের শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কাউন্সিলর নুরন্নবী ফুলু জানান, কেডি খালে পড়ে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, ‘মর্মান্তিক এ ঘটনায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। কেউ আপত্তি না করায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিতে ডুবে যায় রংপুর নগর। গত চার দিনে বেশির ভাগ এলাকার পানি নেমে গেলেও কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

মন্তব্য