kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বানের পানি নামার নাম নেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারি বর্ষণের ফলে উত্তর জনপদে বন্যার পানি বাড়ছেই। অনেক নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। করতোয়ার পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার, আত্রাই নদীর ১০৫ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর ১০ সেন্টিমিটার, ছোট যমুনার পানি ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে ডুবেছে মাঠের ফসল। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় সবগুলো নদীর পানি বেড়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার এখনো বেশ কিছুটা নিচে। তবে করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। সন্ধ্যা ৬টায় তা বেড়ে ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

নাটোর: ভারি বর্ষণে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সিংড়ায় আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এরই মধ্যে সিংড়া পৌরশহর পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া আত্রাই নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বন্যায় নতুন করে আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২২টি আশ্রয়কেন্দে  মানুষ ঠাঁই নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, ১৯৮৮ সালের বন্যার পর আত্রাই নদীর পানি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। এর আগে ২০১৭ সালে আত্রাই নদীর পানি ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সর্বশেষ গতকাল তা ১০৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্তমানে সিংড়া পৌরশহর, শেরকোল, কলম, চামারী, চৌগ্রাম ও তাজপুর ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বলিয়াবাড়ী বাঁধ ভেঙে হু হু করে ঢুকছে পানি। স্থানীয় মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে বাঁধের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

নওগাঁ: নওগাঁর বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনিত হয়েছে। জেলার প্রধান নদী আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি একটি পয়েন্টে কমলেও অন্য সব পয়েন্টে বেড়েছে। আত্রাই ও মান্দার গ্রামগুলোর বাড়িঘর ও ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। ছোট যমুনা নদীর পানি বাড়ার ফলে শহর রক্ষা প্রাচীরের আউটলেট দিয়ে শহরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ উজ্জামান খান জানান, আত্রাই নদীর পানি ধামইরহাটের শিমুলতলী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আত্রাই নদীর মহাদেবপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার, মান্দায় জোতবাজার পয়েন্টে ৮৮ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ছোট যমুনা নদীর পানি গতকাল সকালে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। এ অবস্থায় সিরাজগঞ্জ সদর, শাহজাদপুর আর চৌহালীর যমুনা নদী তীরবর্তী অঞ্চলজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শাহজাদপুরের জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ি, পাকুড়তলাসহ পাশের গ্রামগুলোর দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানির প্রবল তোড়ে ভাঙনের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। ভাঙছে সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী এলাকাসহ চৌহালী উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। যমুনার ভাঙনের মুখে পড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে অসংখ্য মানুষ।

শাজাহানপুর (বগুড়া): শাজাহানপুরে কয়েক দিনের অতিবর্ষণে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। জমে থাকা পানি সেচ দিয়ে সরিয়েও ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা