kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

একনেকে প্রধানমন্ত্রী

শিল্প-কারখানা করা যাবে না কৃষিজমিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিল্প-কারখানা করা যাবে না কৃষিজমিতে

কৃষিজমি নষ্ট করে যেখানে-সেখানে শিল্প-কারখানা না করতে এর আগেও কয়েক দফা নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার আবারও কৃষিজমিতে শিল্প-কারখানা না করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেছেন, কৃষিজমি নষ্ট না করে বরং শিল্প এলাকায় শিল্প-কারখানা করতে হবে। এ ছাড়া শুধু মেডিক্যাল বর্জ্যই নয়, সব ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (একনেক) তিনি এসব নির্দেশ দেন। গণভবন থেকে একনেকের ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস, নৌ, বিমান বা যেকোনো স্টেশনের বর্জ্য অপসারণ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এ কাজে যেসব সংস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আপনারা ব্যবসা করতে চান বা শিল্প করতে চান, সে ক্ষেত্রে শিল্প এলাকায় যান। বাড়ির পাশের ধানের জমি নষ্ট করে শিল্প স্থাপন করবেন কেন? আমরা আপনাদের উৎসাহ দেব, আপনারা শিল্প এলাকায় এসে শিল্প-কারখানা স্থাপন করেন। সেখানে আপনারা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাবেন। গ্যাস, রাস্তা, পানি, বিদ্যুৎ—সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই পাবেন।’

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, গতকাল একনেক সভায় মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিংসহ চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৬২৪ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ১৭২ কোটি ব্যয় করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এম এ মান্নান জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নৌপথের বর্জ্য অপসারণে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। এ ছাড়া কৃষিজমি রক্ষায় যেখানে-সেখানে শিল্প স্থাপন করা যাবে না। অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করতে হবে; যেখানে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, রাস্তাসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। নদীর পার দখলমুক্ত করতেও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একদিকে পার অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং অন্যদিকে কচুরিপানামুক্ত করে ড্রেজিং করতে বলেছেন তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্প-১ নির্মাণসংক্রান্ত একটি প্রকল্পের বিদেশ সফরের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব ছিল সাড়ে চার কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সেটি কমিয়ে ৭০ লাখ টাকা করেছে। আমরা সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই বিদেশ সফরের ব্যয় কমাচ্ছি। কেননা আমরা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করি। সুপার মিনিস্ট্রি বলতে কিছু নেই। পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই বিদেশ সফর ব্যয় কমানো হচ্ছে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, গ্রামে যত মামলা, হাঙ্গামা, খুনখারাবি এর বেশির ভাগই হয় জমিকেন্দ্রিক। ডিজিটাল ভূমি জোনিং হলে এই সমস্যা দূর হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের উৎপাত কমে যাবে। এ ছাড়া জোনিং হলে জমির চরিত্র কী তা সহজেই জানা যাবে। জমি খাস, অর্পিত, আবাদি নাকি জলাভূমি তার সবই সহজেই জানতে পারা যাবে বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্প-১ নির্মাণ, ৩৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্প, ২৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ভৈরব নদ পুনঃখনন প্রকল্প, ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, চাটখিল, সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী উপজেলার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে খাল পুনঃখনন প্রকল্প।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা