kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

উপজেলা চেয়ারম্যানও হতে চেয়েছিলেন হানিফ

ওমর ফারুক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপজেলা চেয়ারম্যানও হতে চেয়েছিলেন হানিফ

প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন তিনি। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তাঁর ছবিসংবলিত পোস্টারও টানানো হয়েছে। তবে এখানেও তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। পোস্টারে নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানা শাখা গত শুক্রবার হানিফ মিয়াকে খাগড়াছড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শনিবার তাঁর মেয়ের বিয়ের তারিখ ছিল। সেই বিয়ের কার্ড বিলি করার সময়ই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর এলাকার বাসিন্দারা পুলিশের কাছে হানিফের প্রতারণার নানা ঘটনা তুলে ধরে। তারা জানায়, হানিফ এলাকায় একেক সময় নিজের একেক পরিচয় দিতেন। কখনো বলতেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব, কখনো কম্পানির মালিক, কখনো বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। আর এসব করে হাতিয়ে নিতেন বিপুল অঙ্কের টাকা।

জানা গেছে, হানিফ মিয়া প্রতারণার উদ্দেশ্যে নোয়াখালী অঞ্চলের এক শিল্পপতি ও সংসদ সদস্যের কণ্ঠ নকল করেন। এরপর বিভিন্ন কম্পানিতে ফোন করে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন। তিনি এমপির কণ্ঠ নকল করে বিভিন্ন কম্পানির চাকরিজীবীদের পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিতেন। গত ১৫-২০ বছর ধরে তিনি নানা কায়দায় এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। অবশেষে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই এমপির কম্পানির এক কর্মকর্তা গুলশান থানায় হানিফের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হানিফ জানিয়েছেন, তিনি ওই এমপির বিভিন্ন জনসভায় যোগ দিয়ে তাঁর কণ্ঠ নকল করার চেষ্টা করেন। আবার বড় কোনো কম্পানির মালিক টিভি টক শোতে গেলে সেখানে গলা শুনে নকল করে তাঁর পরিচয়ে প্রতারণা করতেন। এমনকি গত শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ের খরচের জন্যও তিনি প্রতারণা করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন ৪০ হাজার টাকার বেশি।

গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতারণার মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘হানিফের বিরুদ্ধে অনেকেই প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে আসছে। আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হানিফ মিয়ার দুই স্ত্রী। এক স্ত্রী ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকেন নোয়াখালীর চরজব্বর এলাকায়। দ্বিতীয় স্ত্রী থাকেন খাগড়াছড়িতে। এলাকার মানুষ পুলিশকে জানিয়েছে, এর আগেও প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হানিফ। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গেও এসব বিষয়ে বনিবনা না হওয়ায় ২০ বছর আগে তিনি খাগড়াছড়িতে গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। সেখানে প্রতারণার অর্থে বিলাসবহুল বাড়িও বানিয়েছেন তিনি। এলাকায় প্রভাব বাড়াতে নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। আগামী উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশায় সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে এখন থেকেই প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা