kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অক্টোবরেও খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আগামী বুধবার শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে

শরীফুল আলম সুমন   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘোষিত ছুটি। এরপর ছুটি আরো বাড়ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে। অক্টোবরজুড়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি থাকছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার করোনাকালের শিক্ষার নানা দিক নিয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ওই দিনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির ব্যাপারে দুই মন্ত্রণালয় বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে বর্তমানে করোনার যে পরিস্থিতি তাতে এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সময় আসেনি। আর অভিভাবকরাও এই সময়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী নয়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা আমাদের রয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

জানা যায়, ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে এ বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক বা অর্ধবার্ষিক কোনো পরীক্ষাই নিতে পারেনি স্কুলগুলো। এমনকি গত ১ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত রয়েছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তবে আগামী নভেম্বরে স্কুল খোলা সম্ভব হলে স্বল্প পরিসরে বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণের চিন্তা রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু সেটা সম্ভব না হলে স্কুলগুলো নিজস্ব পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করবে। কিন্তু তেমন পড়ালেখা না করে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হতে পারলেও শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখতে পারছে সেটাই এখন বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করতে পারলেও মফস্বলের শিক্ষার্থীরা এর বাইরে রয়ে গেছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থীই পড়ালেখার বাইরে রয়েছে। এই অবস্থায় আগামী বছর পরবর্তী শ্রেণির ক্লাস শিক্ষার্থীরা কতটুকু আত্মস্থ করতে পারবে তা নিয়ে অভিভাবকরা সন্দিহান।

এদিকে স্কুল না খুললেও অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া যেতে পারে বলে মতামত জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বয়সে বড়। তাঁরা তাঁদের নিজেদের ভালোমন্দ বুঝে চলতে পারেন। তাঁদের পক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করা সম্ভব। এমনকি বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা না থাকলেও শিক্ষার্থীরা কিন্তু ঘরবন্দি নেই। তাঁরা তাঁদের প্রয়োজন অনুসারে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেওয়া সম্ভব। এতে ক্লাসের সংখ্যা কমাতে হবে। শিক্ষার্থীদের একাধিক শিফটে ভাগ করে ক্লাস নিতে হবে। কিন্তু এই শিক্ষার্থীরাই যখন আবাসিক হলে বা মেসে থাকবে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব নয়। কারণ একটি রুমে চার থেকে আটজন শিক্ষার্থী থাকে। আবার অনেক রুমে এর চেয়েও বেশি শিক্ষার্থী থাকে। ডাইনিং রুমেও স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব নয়। আর একজন শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হলে সেখান থেকে বড় আকারে ছড়িয়ে যেতে পারে। এই ব্যাপারগুলো বিবেচনায় নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা