kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ভিসির দায়িত্বে রেজিস্ট্রার সংক্ষুব্ধ শিক্ষকসমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাধারণত জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরাই হন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি)। যদি কাউকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলেও ওই মানদণ্ড ঠিক রাখার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। কিন্তু এবারই প্রথম ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম, যিনি শিক্ষক নন, এর পরও উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব তাঁকেই দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু ওই বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, প্রায় ৩০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে।

এর আগে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদ শূন্য হওয়ার পর গত বুধবার রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরীকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালনের আদেশ দেয় মন্ত্রণালয়। তিনি মূলত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। যেহেতু তিনি শিক্ষক এবং রেজিস্ট্রার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন, সে জন্য এ ব্যাপারে কোনো বিতর্ক হয়নি।

সূত্র জানায়, গত ১৪ আগস্ট শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন আহম্মদের চার বছরের মেয়াদ শেষ হয়। একই সঙ্গে প্রোভিসি অধ্যাপক সেকেন্দার আলী ও ট্রেজারার অধ্যাপক আনোয়ারুল হক বেগের মেয়াদও শেষ হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কাজ চালাতে গত ২০ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিমকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উপাচার্য পদে দায়িত্ব পালন করতে হলে প্রথমত একাডেমিকভাবে দক্ষ হতে হয়। এ ছাড়া প্রশাসনিক দক্ষতাও থাকতে হয়। তাই উপাচার্য পদ শূন্য হলে সাধারণত প্রোভিসি বা ট্রেজারার এই পদের রুটিন দায়িত্ব পান। শেকৃবিতে যেহেতু তিনটি পদই শূন্য, তাই রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য সহজেই ডিন অথবা সিনিয়র অধ্যাপকদের বেছে নেওয়া যেত। সেটা না করে রেজিস্ট্রারকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়ায় সিনিয়র অধ্যাপকরা এখন নিজেদের অসম্মানিত বোধ করছেন।

সূত্র জানায়, শেকৃবির উপাচার্য পদে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদ (দ্বিতীয় মেয়াদে), সদ্য সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সেকান্দার আলী, সদ্য সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক আনোয়ারুল হক বেগ, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. অলক কুমার পাল ও শেকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে যিনি উপাচার্য পদে নিয়োগ পাবেন, এর বাইরে থাকা অন্যদের মধ্যে দুজনকে উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ব্যাপারেই আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতার মতামত প্রাধান্য পায়। প্রস্তাবিত নামগুলোর সঙ্গে ওই নেতার ভিন্নমত থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি।

শেকৃবির কৃষি অনুষদের অধ্যাপক মো. ফজলুল করিম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের কবে মেয়াদ শেষ হবে তা কি কর্তৃপক্ষের জানা নেই? তাহলে কেন মেয়াদ শেষের এক মাস আগেই নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলো না?

রেজিস্ট্রারকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে শেকৃবি শিক্ষক সমিতি। এতে বলা হয়, রেজিস্ট্রারকে যে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাতে শিক্ষকরা বিব্রত বোধ করছেন। তাঁরা স্বল্প সময়ের মধ্যে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি তাদের প্রতিবাদে বলেছে, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার একটি দৃষ্টান্ত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা