kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

তাবেলা সিজার হত্যা

সাক্ষ্যগ্রহণে আটকে আছে বিচারকাজ

চার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মাসুদ রানা   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যাকাণ্ডের মামলায় চার বছর আগে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও তা শেষ হয়নি এখনো। ফলে পাঁচ বছর পার হলেও আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি। তবে রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য, চলতি বছরেই এ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হবে।

২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার মধ্য দিয়ে তাবেলা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। একই বছরের ১১ নভেম্বর এ মামলায় শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। এরই মধ্যে ৩৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এখনো বাকি ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তাপস কুমার পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার বাদী, দুই তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। আর তাঁদের সাক্ষ্য নেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব।’ তিনি আরো বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে মামলা পিছিয়ে গেছে। না হলে এত দিন শেষ হয়ে যেত। তবে আশা করছি, এই বছরের ভেতরে মামলার কাজ শেষ হয়ে যাবে।’

২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশান-২-এর ৯০ নম্বর সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসিওবিডির কর্মকর্তা তাবেলা সিজার। ওই দিনই তাঁর সহযোগী আইসিসিওর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ হেলেন ভেন ডার বিক বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে বিচারাধীন। বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর মামলাটির তারিখ ধার্য ছিল। ওই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর জিয়াদের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এদিন সাক্ষ্য শেষ না হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ২২ জুন ডিবি পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমসহ (কাইয়ুম কমিশনার) সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, হামলাকারীদের একমাত্র লক্ষ?্য ছিল একজন শ্বেতাঙ্গকে হত্যা করে দেশ-বিদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন্ন করতে এই পরিকল্পনা করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন কাইয়ুম কমিশনার, তাঁর ভাই আবদুল মতিন, তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল ওরফে শ্যুটার রুবেল, রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কি রাসেল, মিনহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ভাগনে রাসেল, শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরিফ ও মো. সোহেল ওরফে ভাঙ্গারি সোহেল। আসামিদের মধ্যে কাইয়ুম কমিশনার ও ভাঙ্গারি সোহেল এখনো পলাতক। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে আবদুল মতিন ছাড়া বাকি চার আসামিই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মতিন জামিনে আছেন।

মন্তব্য