kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ওরে বাটপাড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওরে বাটপাড়!

পড়াশোনা করেছেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। নিজেকে পরিচয় দেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব। কখনো কখনো সেজে যান বড় কোনো গ্রুপ অব কম্পানির চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, চেয়ারম্যানের জামাতা। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর ফোন করে তাঁদের লাখ টাকার বেশি বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলেন। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এই বাটপাড়ের নাম হানিফ মিয়া (৪৮)। এই ধুরন্ধর প্রতারককে গত শুক্রবার ডিএমপির গুলশান থানা পুলিশ খাগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় একটি প্রতারণার মামলা হয়। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর আমরা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্যে হানিফের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার সাব-ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম জানান, একসময় হানিফের বাড়ি ছিল নোয়াখালীতে। পরে খাগড়াছড়িতে চলে যান। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও তিনি নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সচিব, কখনো বেসরকারি কম্পানির চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুদিন আগে খ্যাতনামা একটি গ্রুপের মালিকের মেয়ের জামাতা পরিচয় দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ওই কম্পানির তরফে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে নামে পুলিশ। তাঁরা জানতে পারেন, ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি পালিয়ে গেছেন হানিফ।

পুলিশ সূত্র জানায়, হানিফ চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর রাখে। একটি ওয়েবসাইট থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে ওই সব মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিয়ে নিজেকে কম্পানির এমডি বা মালিকের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বিনিময়ে তাঁকে দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত টাকা পরিশোধের জন্য বলেন। চাকরিপ্রত্যাশী অনেকে তাঁর কথায় বিশ্বাস করে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে পাঠিয়ে দেন। হানিফ অর্ধশতাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে এভাবে টাকা নিয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হানিফ মিয়া পুলিশকে জানান, তিনি পেশাদার প্রতারক। তিনি লোক বুঝে কৌশলে বাংলাদেশের স্বনামধন্য বড় বড় গ্রুপ অব কম্পানির চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের জামাতা, পরিচালক, এমডি, অবসরপ্রাপ্ত সচিব পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতেন। তিনি আরো জানান, প্রতারণা করে সহজে আয় করা যায় বলে তিনি এ কাজে নেমেছেন। গুলশান থানা পুলিশ জানায়, গতকাল তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত রিমান্ড না দিয়ে তাঁকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা