kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কেনা জমি নিয়ে অশান্তি বাড়ছে ময়মনসিংহে

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেনা জমি নিয়ে অশান্তি বাড়ছে ময়মনসিংহে

স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রয়াত দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক গোলাম সামদানী কোরায়শী স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে জমি কিনেছিলেন ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া মৌজায়। সেই জমির কিছু অংশে তাঁর ছেলেরা বাড়িঘর করেছেন। বাকি কিছু অংশ নিজেদের দখলে রেখে পাকা দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল দীর্ঘদিন। সেই ফাঁকা স্থানে সম্প্রতি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় কিছু লোকজন তাতে বাধা দেয়। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ নগরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি।

তবে শুধু এ ঘটনাই নয়, ময়মনসিংহ নগরে এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে এখন কেউ জমি কিনে দখল নিতে গেলে অথবা দখলে থাকা জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করতে গেলেই নানা বিপদ আর অশান্তি এসে ভর করছে জমির প্রকৃত মালিকদের ওপর। বিষয়টি বর্তমানে একেবারে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ময়মনসিংহ নগরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অহরহ ঘটছে জমি নিয়ে বিরোধ আর অশান্তির ঘটনা। একাধিক ঘটনার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খুনোখুনির ঘটনা ঘটে যেতে পারে যেকোনো সময়। 

জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে জমি বিক্রয়কারী মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশরা এসে ঝামেলা বাধাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জমির সীমানা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাধার সৃষ্টি করছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় অনেক জনপ্রতিনিধিও বিতর্কিত ভূমিকা রাখছেন। থানা-পুলিশ করে কিংবা আইন-আদালতে গিয়েও ভুক্তভোগীরা সহজে নিস্তার পাচ্ছে না। জেলায় অসংখ্য নিরীহ পরিবার বর্তমানে জমি কিনে শান্তিতে বসবাস করার পরিবর্তে উল্টো নিজেদের ওপর উটকো বিপদ ডেকে এনেছেন বলে মন্তব্য করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আইনসংশ্লিষ্ট বিভাগে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, জমির দাম হু-হু করে বেড়ে যাওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে। এ ছাড়া নগর আর জেলাজুড়ে একটি চক্র গজিয়েছে, যারা মনে করে এ ধরনের জমিজমার ক্ষেত্রে যেকোনোভাবে ঝামেলা বাধাতে পারলেই লাভ। এ ছাড়া ভূমি অফিস থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের ভূমিকার কারণেও জমি নিয়ে ঝামেলার ঘটনা ঘটছে।

জানা যায়, একসময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে জমির মালিকরা অপেক্ষাকৃত ধনী ব্যক্তিদের কাছে নামমাত্র মূল্যে জমি বিক্রি করেছেন। সেই জমি হয়তো এত দিন পতিত ছিল। বর্তমান সময়ে যখনই জমির ক্রেতা জমিতে দখল নিতে গেছেন অথবা বাড়ি নির্মাণ করতে গেছেন তখন জমি বিক্রয়কারী ব্যক্তির ওয়ারিশরা এসে জমির অংশ দাবি করে বসছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিক একজনের কাছে জমি বিক্রি করেছেন যে দাগে, সেই দাগে গোপনে অন্য প্রভাবশালীর কাছে একই জমি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে হয়তো বিক্রেতা মারা গেছেন। কিন্তু জমি বিক্রি করে দুই পক্ষকেই ফাঁসিয়ে দিয়ে গেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১০ বছরে নগরে জমি ক্রয় এবং বাড়ি নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। আর এতেই জমির বিরোধগুলো চাঙ্গা হচ্ছে। বিরোধ নিষ্পত্তিতে ঘটছে দেনদরবারের ঘটনাও। এতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকছে প্রভাবশালীদের। সুতরাং প্রভাবশালীদের স্বার্থান্ধ প্রভাবে অনেক সময়ে সাধারণ জটিলতা বড় আকার ধারণ করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিচ্ছেন বিতর্কিত অবস্থান। অনেক এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ধান্ধাবাজ একাধিক চক্র। অনেক ক্ষেত্রে জমির পুরো কাগজপত্র ঠিক থাকলেও ঝামেলা এড়াতে অনেকে টাকা-পয়সা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। জমির মামলায় আইনি দীর্ঘসূত্রতায় অনেকে আদালতেও যেতে চান না।

ময়মনসিংহের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত জানান, ভূমি সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব সমস্যা বেশ জটিল। তিনি বলেন, ‘সময়ের বিবেচনায় আমাদের দেশে ভূমি আইনগুলোর সংস্কার হয়নি। কাগজপত্রের জটিলতাতেও অনেকে হয়রানিতে পড়েন। এসব ক্ষেত্রে ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও দুর্নীতিতে জড়িয়ে বিতর্কিত ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া বর্তমানে সমাজে ধান্ধাবাজ চক্র গজিয়েছে। এরা প্রভাবশালীদের প্রশ্রয় পায়। এরাও সুযোগ বুঝে নিরীহ জমি ক্রয়কারীদের নানাভাবে হয়রানি করে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফজলে রাব্বী কালের কণ্ঠকে জানান, জমির বিরোধ নিয়ে কেউ থানায় এলে তাঁরা আইনগতভাবে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করে থাকেন। এ ছাড়া জমির বিরোধে কোথাও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তাঁরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা