kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

স্কুলছাত্রী নীলা হত্যা

দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই কেউ

সাভারে ভাইয়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে স্কুলপড়ুয়া বোনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি। নিহত নীলা রায়ের বাবা নারায়ণ রায় সোমবার রাতে সাভার থানায় বখাটে মিজানুর রহমান, তাঁর বাবা আবদুর রহমান ও মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

গত রবিবার রাত ৮টার দিকে সাভার পৌরসভার পালপাড়ায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নীলাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন মিজান। বাড়িটি মিজানের বাবা আবদুর রহমানের বলে জানায় প্রতিবেশীরা।

নীলাদের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বালিরটেক গ্রামে। তার বাবা নারায়ণ রায় মেট্রো রেল প্রকল্পে চাকরি করেন। সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকত নীলা। সে স্থানীয় অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মিজান ও তাঁর মা-বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও নীলার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নীলা গত রবিবার রাত ৮টার দিকে ভাই অলক রায়কে নিয়ে রিকশায় করে হাসপাতালে যাচ্ছিল। বাসা থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর মিজান রিকশাটি থামান। এরপর অস্ত্রের মুখে নীলাকে টেনেহিঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে পালপাড়া এলাকার গলির ভেতরে নিজেদের পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। পরে নীলার গলায়, পেটে, মুখে ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। আশপাশের লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় নীলাকে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নীলাকে হারিয়ে শোকে-দুঃখে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি। নীলার মা মুক্তি রায় কান্না চাপতে চাপতে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর মেয়ে ডাক্তার হয়ে গরিব মানুষের সেবা করতে চেয়েছিল। ঘাতক মিজান সব শেষ করে দিল। তিনি মিজানের ফাঁসি দাবি করেন।

ঘটনাস্থল পরিত্যক্ত বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, তিন কক্ষের একটি টিনশেড ঘর রয়েছে। কক্ষ তিনটিই তালাবদ্ধ। একটি কক্ষের লোহার দরজায় রক্তের ছাপ দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে, পরিত্যক্ত বাড়িটিতে এলাকার বখাটেরা আড্ডা দেয় এবং বিভিন্ন অপকর্ম করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা