kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দুলাল কেন হাতি কিনলেন

হায়দার আলী বাবু, লালমনিরহাট   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুলাল কেন হাতি কিনলেন

কৃষক হাতি কিনেছে এটা প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। তাই অনেকদূর থেকে দেখতে এসেছি। আগে গ্রামেগঞ্জে সার্কাস হলে হাতি দেখা যেত, কিন্তু এখন আর তা চোখে পড়ে না। তাই এখানে হাতি দেখে অনেক মজা পেলাম। কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রতিধর গ্রামের দুলাল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে উপস্থিত আবু কালাম।

অজপাড়াগাঁয়ের এক কৃষক তাঁর বাড়িতে হাতি কিনে এনেছেন—এই খবরের সত্যতা যাচাইয়ে পাকা সড়ক, ইটবাঁধানো রাস্তা আর মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল এলাহি কাণ্ড। শিশু, বৃদ্ধ, তরুণ-যুবক, নারী-পুরুষ সব শ্রেণির মানুষ সেখানে উপস্থিত হস্তী দর্শনে।

দুলালের প্রতিবেশী অনিল চন্দ্র এ প্রতিবেদককে বললেন, ‘শুনেছি ভগবান ওদের হাতি কিনতে বলায় তা কিনে আনা হয়েছে। এর আগে খরগোশ, রামছাগল, ঘোড়া কিনেছে। হাতি কেনার নির্দেশ না মানলে যদি কোনো ক্ষতি হয় সে জন্যই সেটি কিনে এনেছেন তাঁরা।’

হাতির রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত মাহুত ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘হাতি কিনে আনার সময় আমাকেও নিয়ে আসা হয়েছে। খাওয়া-দাওয়াসহ আমার বেতন ১৫ হাজার টাকা। হাতিটি দেখতে এই বাড়িতে অনেক মানুষ আসছে, এটা দেখে ভালো লাগছে। তবে হাতি দিয়ে তিনি (দুলাল) এখন কী করবেন সেটা আমি জানি না।’

পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহখানেক আগে মৌলভীবাজার জেলার আব্দুল করিমের কাছ থেকে সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে হাতিটি। পরিবহনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে আরো এক লাখ টাকা। সব মিলিয়ে হাতির দাম দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর—স্বামী বিবেকানন্দের এই মহৎ বাণী অনুসরণে আসলে হাতি পালনে উদ্যোগী হননি কৃষক দুলাল চন্দ্র রায় ও তুলসী রানী দম্পতি। এর মাধ্যমে তাঁরা মানুষকে বোকা বানিয়ে আর্থিক সুবিধার ধান্দা করছেন আসলে।

এ প্রসঙ্গে তুলসী রানী বলেন, ‘কালীমাতা আমার গাঁয়ে এসে কথা বলেন। তাঁর আশীর্বাদেই শনি ও মঙ্গলবার আমি দৈবযোগে মানুষের সমস্যার সমাধান করি। তাঁরা যা দেন, তা-ই গ্রহণ করি।’

তুলসীর স্বামী দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার নির্দেশেই আমরা সব কিছু করে থাকি। তিনি এবার হাতি কেনার নির্দেশ করায় আমরা তা পালন করেছি।’ এই হাতি দিয়ে এখন কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সৃষ্টিকর্তা যা বলবেন তাই করব।’

হাতি পোষার জন্য সরকার থেকে লাইসেন্স ও পজিশন সার্টিফিকেট নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে দুলাল চন্দ্র বলেন, ‘যার কাছ থেকে হাতি কিনেছি তিনি তাঁর লাইসেন্সের ফটোকপি ও স্ট্যাম্পে আমাকে লিখে দিয়েছেন। আমাকেও লাইসেন্স করতে হবে সেটা জানা ছিল না। তবে বন বিভাগ আমাকে ফোন করে লাইসেন্সের জন্য অফিসে যেতে বলেছে।’

লালমনিরহাট জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন নবী গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাতি কেনার বিষয়টি কিছুক্ষণ আগে জানতে পেরে দুলাল চন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে অফিসে আসতে বলেছি। তিনি আগামীকাল (বুধবার) অফিসে এসে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হবে।’

লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার বলেন, ‘একজন কৃষক হাতি কিনে এনেছেন জানার পর আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা