kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শিক্ষকদের আন্ত বদলিতে নিয়ম-নীতির বালাই নেই

শরীফুল আলম সুমন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষকদের আন্ত বদলিতে নিয়ম-নীতির বালাই নেই

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্ত বদলিতে নিয়ম-নীতির বালাই নেই। ইচ্ছামতো বদলি করছে ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়। বদলি সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করতে পারলেই শুধু বদলির সুযোগ মিলছে। এর বাইরে নিয়মমাফিক বদলির আবেদন করে বছরের পর বছর ঘুরছেন অন্য শিক্ষকরা। চাপা পড়ে থাকা তাঁদের ফাইল আর ওপরে উঠে আসছে না।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ের অধীনে রয়েছে ১৩টি জেলা। আর এই বিভাগের উপপরিচালক ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এই অফিসে কর্মচারীদের সমন্বয়ে রয়েছে একটি বদলি সিন্ডিকেট। তাদের ম্যানেজ করতে পারলে দ্রুতই বদলি হওয়া সম্ভব হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা বিভাগের আন্ত বদলিতে নির্দেশিকা না মানার ব্যাপারে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালককে (প্রশাসন) বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তাঁর কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’

আকরাম-আল-হোসেন আরো বলেন, ‘বিভাগীয় উপপরিচালক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশ ছাড়া বদলি করতে পারেন না। কেবল অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনস্বার্থে যেকোনো বদলি করতে পারেন। এখন জেলা শিক্ষা অফিস বা বিভাগীয় অফিস বদলি নির্দেশিকা না মানলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এসব কারণে পুরো বদলিব্যবস্থাকেই অনলাইনে নিয়ে আসতে কাজ করছি। আশা করছি, আগামী বছর থেকেই সব বদলিপ্রক্রিয়া অনলাইনে চলবে।’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক বদলি নির্দেশিকায় (সংশোধিত) বলা আছে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আন্ত উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও যেকোনো জেলা-উপজেলা থেকে সিটি করপোরেশনে বদলি হওয়া যাবে। নির্দেশিকার ২.২ ধারায় বলা আছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আন্ত উপজেলার মধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশক্রমে বদলি করতে পারবেন। আর ২.৪ ধারায় বলা আছে, বিভাগীয় উপপরিচালক তাঁর নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশক্রমে সহকারী শিক্ষকদের আন্ত জেলা বদলি করতে পারবেন।

ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত একাধিক বদলির আদেশ কালের কণ্ঠ’র কাছে রয়েছে। সেখানে বদলি নির্দেশিকার ২.৪ ধারা মানা হয়নি। অর্থাৎ উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশ ছাড়াই তিনি বদলি করেছেন। আবার যেসব বদলি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এখতিয়ারভুক্ত, সেগুলোও তাঁদের কোনো সুপারিশ ছাড়াই তিনি বদলি করেছেন। এমনকি একই উপজেলার মধ্যে যেসব বদলি রয়েছে, সেগুলোও উপপরিচালক করছেন, যা সম্পূর্ণই এখতিয়ারবহির্ভূত।

গত মার্চ মাসে ঢাকা বিভাগের শিক্ষকদের পক্ষে আলী আজম নামের এক ব্যক্তি উপপরিচালক ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়ার নানা অনিয়ম তুলে ধরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ জমা দেন। এতে বলা হয়, বদলি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে দু-তিন লাখ টাকার বিনিময়ে উপপরিচালকের দপ্তর থেকে নিয়মিত শিক্ষক বদলি করা হচ্ছে। বদলি সিন্ডিকেটের টাকা সংগ্রহ করছেন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. ইউসুফ আলী। ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলায়ই এই সিন্ডিকেটের লোক রয়েছে। টাকা দিলে এই সিন্ডিকেট জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশ ছাড়াই সরাসরি উপপরিচালকের স্বাক্ষরে বদলির আদেশ জারি করে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে তারা এরই মধ্যে ৩০০ শিক্ষককে তাঁদের পছন্দের বিদ্যালয়ে বদলি করেছে।

এসব ব্যাপারে ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি এসএমএস করলেও তিনি উত্তর দেননি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা