kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়

অফিস সহায়ক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার অফিস সহায়ক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ পাওয়া অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। অনেকের বয়স বেশি। স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে। তবে জেলা প্রশাসক দাবি করেছেন, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি।

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর একজন নৈশপ্রহরীসহ ১৫ অফিস সহায়ক পদে দরখাস্ত আহ্বান করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তাতে আবেদন করেন দুই হাজার ৬০০ জন। মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ২০ আগস্ট উত্তীর্ণ ১৬ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

চাকরিপ্রত্যাশী অনেকেই জানান, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন কুমারখালী উপজেলার সাওতা গ্রামের সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি জেলা প্রশাসকের বাসার বাবুর্চি বিল্লাল হোসেনের বোন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, সাবিনার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জুন। সেই হিসাবে তাঁর বয়স ৩৯ বছর। কিন্তু চাকরি বিজ্ঞপ্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৩০ বছর। এ ছাড়া সাবিনার জমা দেওয়া লাহিনীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদটিও নকল। বিদ্যালয়ের শিক্ষক কলিম উদ্দিন বলেন, ‘এই সনদ আমাদের স্কুলের না। এ রকম সনদ বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।’

নিয়োগপ্রাপ্তদের আরেকজন ওমেদার শরিফুল ইসলাম। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তাঁর বয়স ৩৪ বছর। এ ছাড়া ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে ২০১৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন তাঁকে জেলা প্রশাসন থেকে বের করে দিয়েছিলেন।

নিয়োগ পেয়েছেন মিলন হোসেন ও নাসরিন আক্তার নামের আরো দুজন। এর মধ্যে মিলন হোসেন জেলা প্রশাসকের বাসভবনের কর্মচারী কামরুল ইসলামের ভাই। আর নাসরিন তাঁর চাচাতো বোন। এ ছাড়া নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বাসার কাজের ছেলে হেলালও নিয়োগ পেয়েছেন। চাকরি পাওয়া ইউসুফ আলী নামের আরেকজনের বয়স ৪০ বছরের বেশি। প্রতিবন্ধী কোটায় চাকরি পাওয়া তৌফিক হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়া হোসেনের বয়সও ৪০ বছরের বেশি।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘কোনো অনিয়ম হয়নি। পুলিশি তদন্তে কারো বিরুদ্ধে অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে নিয়োগ বাতিল করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা