kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

কুমিল্লায় বাসের ভেতরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার কুমিল্লা শহরে যাত্রীবাহী বাসের ভেতরে এক তরুণীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তরুণীটি গত শুক্রবার চাকরির খোঁজে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাড়ি থেকে ঢাকায় এসে জেঠাতো বোনের বাসায় উঠেছিল। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই নির্যাতনের শিকার হয় সে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাসচালক ও তাঁর সহকারীকে (হেলপার) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণী। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

কুমিল্লা : গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তিশা প্লাস পরিবহনের বাসচালক ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার নেউরা গ্রামের শরীফ হোসেনের ছেলে আরিফ হোসেন সোহেল (২৬) এবং তাঁর সহকারী ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কামিনারবাগ গ্রামের শেখ ওয়াজেদের ছেলে বাবু শেখ (২২)। সোহেল ও বাবু কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার নোয়াবাড়ী (পদুয়ার বাজার) ও মধ্যম আশ্রাফপুর এলাকায় বাস করেন। এ ঘটনায় আরেক অভিযুক্ত বাসটির সুপারভাইজার কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার আটচাইল গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে আলমকে (৩২) গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে নির্যাতিত তরুণীকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর বুধবার রাতে তার মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ, মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণপাড়ার বাসিন্দা তরুণীটি (১৬) ঢাকার আবদুল্লাহপুরে জেঠাতো বোনের বাসা থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে বের হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে তিশা প্লাস পরিবহনের বাসযোগে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে সে বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে শাসনগাছা বাসস্টেশনে তাকে নামিয়ে দিতে অনুরোধ জানায়। তাঁরা তাকে সেখানে নামিয়ে দেবেন এবং এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তাঁরা শাসনগাছায় অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে কৌশলে তরুণীকেসহ বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের আল-শাকিল হোটেলের সামনে নিয়ে যান। সেখানে মঙ্গলবার ভোরের দিকে বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন সোহেল, বাবু ও আলম। পরে সোহেল চলে গেলে বাবু ও আলম তরুণীকে পদুয়ার বাজারে বাবুর বসতঘরে নিয়ে ফের ধর্ষণ করেন। সকাল ৬টার দিকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ঘর থেকে বের করে দিয়ে চলে যেতে বলেন।

পরে ওই তরুণী মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার মাকে জানায়। তিনি ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেন এবং রাতে তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। তরুণীর মা জানান, তাঁর মেয়ে গাজীপুরে পোশাক কারখানায় চাকরি করত। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পাঁচ মাস আগে সে বাড়ি চলে আসে।

তিশা প্লাস পরিবহনের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দুলাল হোসেন অপু বলেন, ‘আমরা দুই আসামি বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩৯৮) চালক ও হেলপারকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর বৃহস্পতিবার রাতে জানান, আদালতে গ্রেপ্তারকৃতদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আলমডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় গত বুধবার ভোরে বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান হাফিজ উপজেলার শ্রীরামপুরের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, হাফিজ ভুক্তভোগীর স্বামীকে মাছের ঘেরে কাজ করার জন্য ডেকে নিয়ে যান। কিছুদূর গিয়ে বন্ধুকে বসিয়ে রেখে হাফিজ বন্ধুর বাড়িতে যান বিড়ি ধরানোর অজুহাতে। সেখানে তিনি বন্ধুর ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন। আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

ধুনট : বগুড়ার ধুনটে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীকে (১৬) ধর্ষণে অভিযুক্তের নাম বিদ্যুৎ হোসেন (২৪)। গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার চৌকিবাড়ী গ্রামের শাহ কামালের ছেলে। তরুণীটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

গ্রামের কয়েকজন মাতবরের উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গতকাল সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ বৈঠকে বসার কথা ছিল। পুলিশ বিষয়টি জানতে পেয়ে বিদ্যুেক আটক করে।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ হোসেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা