kalerkantho

বুধবার । ১২ কার্তিক ১৪২৭। ২৮ অক্টোবর ২০২০। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পাখি আর মানুষের ভালোবাসাবাসি

বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী, বাগেরহাট   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাখি আর মানুষের ভালোবাসাবাসি

পোষা পাখি এখন বাণিজ্যের একটা অংশও। বাগেরহাটে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে দেশি-বিদেশি পোষা পাখির প্রজনন খামার। এটি করেছেন শিল্পপতি ফজলুল করিম। যদিও বাণিজ্যের বিষয়টি তাঁর কাছে গৌণ; মূলত পাখির প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে এই খামার গড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে।

খামারে এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি পাখির ডিম থেকে ছানা ফুটেছে। পাখিপ্রেমিক ফজলুল করিম এখন দেশ-বিদেশে পাখির বাণিজ্য করতে চান।

সদর উপজেলার উত্কুল গ্রামে গড়ে তোলা এই খামারের নাম ‘এভারগ্রিন বার্ড পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট’। সালফার কাকাতুয়া, ম্যাকাও, ব্লু গোল্ড, আফ্রিকান গ্রে প্যারোট, গ্রিন উইং ম্যাকাও, নিকোবার পিজিওন, কেরি হেডেট প্যারেন্ট, সান কনিউর, জেন্ডে কনিউর, ময়ূরসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে এই খামারে। এখানে যেসব প্রজাতির পাখি রয়েছে তার মধ্যে এক জোড়া সালফার কাকাতুয়ার দাম প্রায় আট লাখ এবং এক জোড়া গ্রিন উইংয়ের দাম প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা। এরই মধ্যে আট প্রজাতির বিদেশি পাখির ডিম থেকে প্রায় অর্ধশত বাচ্চা ফুটেছে খামারে। এশিয়া মাহাদেশের মধ্যে এই প্রথম সম্প্রতি এই খামারে সালফার কাকাতুয়ার ডিম থেকে একটি বাচ্চা ফুটেছে।

খামারে গিয়ে দেখা গেছে রং-বেরঙের নানা পাখি। পাখির কিচিরমিচির ডাক আর কোলাহলে গোটা খামার মুখরিত হয়ে উঠেছে। একেক প্রজাতির পাখির জন্য আলাদা করে কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ফজলুল করিম পাখির নাম ধরে ডাক দিলে উত্তর দিচ্ছে। লোহার ফটকের তালা খুলে ভেতর ঢুকতেই ফজলুল করিমের কাছে এসে হাত থেকে খাবার খাচ্ছে পাখি। এখানে ১৮ প্রজাতির পাখি রয়েছে। পাখির সংখ্যা ১৫০টি। খামারে এক হাজার পাখি রাখার ব্যবস্থা আছে।

ফজলুল করিম জানান, পাখির প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই। খাঁচায় রেখে বনের পাখিকে তিনি পোষ মানিয়েছেন। পাখির প্রতি ভালোবাসা থেকেই খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। খামারের সব পাখি তাঁর ভাষা বুঝতে পারে। তিনি বলেন, ‘পাখিদের আমি যেমন ভালোবাসি, তেমনি পাখিরাও আমাকে ভালোবাসে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফর রহমান জানান, ওই খামারে বিরল প্রজাতির অনেক পাখি রয়েছে। পাখিপ্রেমিক ছাড়া এসব পাখির গুরুত্ব বোঝা সম্ভব নয়।’

মন্তব্য