kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

রংপুর খাদ্য বিভাগ

ছেঁড়াফাটা বস্তা কেনা হলো অর্ধকোটি টাকা কমিশনে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে অনিয়ম-দুর্নীতির পর রংপুরে এবার চালের বস্তা সরবরাহ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে। সাত লাখ বস্তা কেনায় খাদ্য

বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা অন্তত অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলছেন, এই বস্তা দুর্নীতির অভিযোগ জেলা পর্যায়ে তদন্ত হচ্ছে।

খাদ্য বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় গত ৮ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম সদর এলএসডি থেকে নীলফামারী সদর এলএসডিতে এক লাখ (৩০ কেজি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন) খালি বস্তার চলাচল সূচি জারি করে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর নীলফামারী সদরে খালি বস্তার চারটি গাড়ি প্রবেশ করে। নীলফামারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ অন্য কর্মকর্তারা গাড়িতে নিয়ে আসা বস্তাগুলো যাচাইকালে দেখতে পান এসব তা অনেক পুরনো (২০১৫-১৬ সালের), যা বিভিন্ন এলএসডিতে আগে ব্যবহার করা হয়েছে। ছেঁড়াফাটা ও মেরামত করা বস্তাগুলো পাঁচ-ছয় বছর আগের মহিলাবিষয়ক দপ্তরের বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত এবং বিলি-বিতরণের স্টেনসিল ব্যবহার করা হয়েছে। পুরনো বস্তাগুলো উল্টে ক্যালেন্ডার করে সরবরাহ করা হয়েছে। মানসম্মত না হওয়ায় নীলফামারী সদর খাদ্যগুদাম ব্যবহারের অনুপযোগী ওই এক লাখ বস্তা কুড়িগ্রামে ফেরত পাঠায় এবং বিষয়টি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে মহাপরিচালককে অবগত করা হয়।

একইভাবে কুড়িগ্রাম সদর এলএসডি থেকে রংপুর শঠিবাড়ী এলএসডিতেও বস্তা পাঠানো হয়। গুদাম কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান রাশেদ নিম্নমানের বস্তা গ্রহণ না করে তা ফেরত পাঠান। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থেকে রংপুরের কাউনিয়া এলএসডিতে পাঠানো বস্তার ক্ষেত্রেও।

নীলফামারী সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান জানান, নিম্নমানের এক লাখ বস্তা কুড়িগ্রামে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর এলএসডিতে টেন্ডারের মাধ্যমে সাত লাখ বস্তা (প্রতিটি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা) ক্রয় করে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খোলাবাজার থেকে ১০ টাকা দরে কিনে বস্তা উল্টে স্টেনসিল ব্যবহার ও ক্যালেন্ডার করে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অভিযোগ উঠেছে, কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক প্রতি বস্তায় ৭-১০ টাকা কমিশনে পুরনো বস্তাগুলো গুদামজাত করেছেন। এর মাধ্যমে অন্তত অর্ধকোটি টাকা কমিশন নিয়েছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সহযোগিতায় বিভিন্ন এলএসডিতে তা চলাচল সূচির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে।

নীলফামারী সদর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদ হাসান বলেন, পুরনো ও নিম্নমানের ওই সব বস্তা গ্রহণে তাঁর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। এর পরও তিনি ওই সব বস্তা গ্রহণ করেননি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুছ ছালাম বস্তার দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ ছাড়া সরবরাহকৃত বস্তা ফেরতের বিষয়টিও তিনি জানেন না বলে জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান বলেন, এসব বস্তা ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের জন্য সংরক্ষিত। যেসব এলএসডিতে বস্তার সংকট দেখা দিয়েছে, সেখানে এসব বস্তা পাঠানো হয়।

এদিকে প্রেরিত বস্তা ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে অবগত করা হলে তিনি কুড়িগ্রামের বিভিন্ন খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যান। তবে গুদামে রক্ষিত বস্তা যাচাই না করে এবং কোনো পদক্ষেপ না নিয়েই তিনি ফিরে আসেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানতে চাইলে রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সালাম জানান, বস্তার দুর্নীতির বিষয়ে জেলা পর্যায়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা