kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছানোর প্রস্তুতি

প্রাথমিকের এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে পাবে এক হাজার টাকা
জানুয়ারিতে দেওয়া হবে মোবাইলে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছানোর প্রস্তুতি

আগামী বছরের জানুয়ারির বই উৎসবের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দেওয়ার প্রস্তুতিরকাজ চলছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে নতুন বছরের শুরুতেই এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে এক হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। গত ১০ সেপ্টেম্বর সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন, যাতে শিক্ষার্থীরা এ টাকা দিয়ে কাপড়-চোপড়, টিফিন বক্স ও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়কে পাঠানো চিঠিতে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য এ টাকা দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এ টাকা সরাসরি পৌঁছে যাবে শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকের মোবাইলে। এভাবে টাকা পাঠাতে ব্যয় হবে প্রায় ২০ কোটি টাকা। টাকা পেতে শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটরে নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে যখন নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে। তখন আমরা শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার দিতে পারব বলে আশা করছি।  উপবৃত্তি প্রকল্প পরিচালক মো. ইউসুফ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা দিলে আমরা কাজ শুরু করব।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠির ব্যাপারে অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চিঠি পেয়েছি। টাকা ছাড়ের বিষয়টি আগামী অর্থবছরের মধ্যেও পড়ে। তাই সে অনুযায়ীই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রয়োজন অনুুসারে অর্থ ছাড় হবে।’

সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রাথমিক শিক্ষার উপবৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে পাঠানো হবে। উপবৃত্তি প্রকল্প শুরু হয় ২০১৫ সালে। শেষ হবে ২০২১ সালে। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের টাকা থেকেই এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা ছাড় করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সাধারণত উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে এ টাকা চলে যায়। কিন্তু উপহারের টাকা পেতে নতুন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্ট খুলতে হতে পারে। কারণ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটর ‘শিউর ক্যাশের’ চুক্তি ছিল। গত জুন মাসে সে চুক্তি শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি করেনি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যদি অন্য কোনো অপারেটর চুক্তি করে তাহলে অভিভাবকদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেতে সেই অপারেটরের অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

যেহেতু শুধু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর এ উপহার পাবে, তাই দেশের প্রতিটি প্রাথমিক স্কুল শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠাবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সে তালিকা যাচাই করবে। তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের পর টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হবে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠাতে প্রতি ১০০ টাকায় সরকারের খরচ হবে ৭০-৮০ পয়সা। সে হিসাবে সব শিক্ষার্থীকে টাকা পাঠাতে সরকারের খরচ হবে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা