kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ অর্ধেক শেষ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩ হাজারের অধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা তিন হাজার ১৫৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া ৩৬টি খালের প্রায় ৮৫ কিলোমিটার অংশ পরিষ্কার করা হয় এবং উচ্ছেদ করা হয় অবৈধ স্থাপনা।

এ ছাড়া ৩০২ কিলোমিটার ড্রেনের মধ্যে ২৪০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কারসহ প্রায় ৫২ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার সম্প্রসারণ করা হয়। যার কারণে এবারের বর্ষা মৌসুমে মহানগরীতে অতীতের মতো জলাবদ্ধতা হয়নি। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ জলাবদ্ধতার স্থায়ী অবসান হবে বলে জানান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ। গতকাল শনিবার দুপুরে সিডিএ মিলনায়তনে চট্টগ্রামে কর্মরত জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এসব তথ্য জানান তিনি। এই সময় সিডিএ গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও আগামী দিনে গ্রহণ করা হবে—এমন প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, নগরীর আউটার রিংরোডের ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে লালখান বাজার থেকে শাহআমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ প্রায় ৩৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। ওই এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে  চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে এবং কভিড-১৯-এর কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হয়েছে। একইভাবে চাক্তাই-কালুরঘাট রিংরোডের কাজ ৩৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকলিয়া এক্সেস রোডের কাজ ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিঙ্ক রোডের কাজ ৯১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে যানবাহন চলাচল করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো খুলে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ এক যুগ পর সিডিএ আবারও আবাসন প্রকল্পে হাত দিয়েছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান জানান, এর আগে সিডিএর করা অনন্যা আবাসিক প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছেন তাঁরা।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প কাজের গুরুত্ব প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, চট্টগ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। তিনি জানান, পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পকাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ডিজি কর্নেল সায়েম মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জানান, বিভিন্ন খাল-ড্রেন দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা তিন হাজার ১৫৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এই প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে। অবৈধ এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বহুতল ভবন, মার্কেট এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও। অনুষ্ঠানে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প পরিচালকসহ সিডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য