kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

নিম্ন আদালতকে জামিন প্রশ্নে চার নির্দেশনা হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিম্ন আদালতকে জামিন প্রশ্নে চার নির্দেশনা হাইকোর্টের

কোনো ব্যক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন প্রশ্নে দেশের সব নিম্ন আদালতের প্রতি প্রায় এক বছর আগেই চার দফা নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন হাইকোর্ট। নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো ব্যক্তি হাইকোর্ট থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিন পাওয়ার পর তার অপব্যবহার না করলে সেই জামিন বাতিল করতে পারবেন না অধস্তন কোনো আদালত। চট্টগ্রামের মো. ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তির জামিন বিষয়ে গত বছর ২৩ অক্টোবর এ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে এই চার দফা নির্দেশনা দেন। নির্দেশনাটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

হাইকোর্ট বলেছেন, ইদানীং লক্ষ করা যাচ্ছে হাইকোর্ট থেকে জামিনের পর নিয়মিত সংশ্লিষ্ট আদালতে (অধস্তন আদালত) হাজিরা দিচ্ছেন, এমন আসামির জামিন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। জামিনের অপব্যবহার না করলেও শুধু জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর হাইকোর্টের আদেশের কপি দাখিল না করার কারণে এই জামিন বাতিল করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অধস্তন আদালত থেকে প্রায়ই এমনটি করা হচ্ছে। দিনের পর দিন এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হাইকোর্ট ও বিচারপ্রার্থীরা আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

নির্দেশনাগুলো হলো : ১. হাইকোর্ট বিভাগ থেকে কোনো আসামি যদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিনে মুক্তি পান, তবে জামিনের অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া অধস্তন আদালত তাঁর জামিন বাতিল করতে পারবেন না।

২. নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তির জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ দাখিল না করার কারণে অধস্তন আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠাতে পারবেন না।

৩. সংশ্লিষ্ট আসামি বা ব্যক্তির জামিন বাতিল করতে হলে হাইকোর্টের যে রুল বা আপিলে জামিন পেয়েছেন, সেই রুল বা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

৪. হাইকোর্ট যে রুলে বা আপিলে জামিন দিয়েছেন, তা খারিজ না হওয়া পর্যন্ত অধস্তন আদালত তাঁর জামিন বাতিল করতে পারবেন না। তবে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের শর্ত ভঙ্গ করলেই শুধু জামিন বাতিল করা যাবে।

জানা যায়, মো. আবু বকর চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি তাঁর আট বছরের ছেলেকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় ২০১৮ সালের ১৬ মে একটি মামলা করেন। এ মামলায় ওই দিনই পুলিশ ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে। ইব্রাহিম চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জামিনের আবেদন করেন। ওই আদালত তাঁকে জামিন না দিলে তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে ছয় মাসের জামিন দেন এবং রুল জারি করেন। এরপর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ অবস্থায় পুলিশ তদন্ত শেষে ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ইব্রাহিম ২০১৯ সালের ১৯ জুন চট্টগ্রামের ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু ওই আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে তাঁকে আবারও কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট গত বছর ২৬ জুন তাঁকে তিন মাসের জামিন দেন। 

একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারককে তলব করেন। ওই বিচারক ১৪ জুলাই হাইকোর্টে হাজির হয়ে ইব্রাহিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের ব্যাখ্যা দেন। পরে ২১ জুলাই লিখিতভাবে হাইকোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মজিবুর রহমান। ইব্রাহিমের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. হাসিবুর রহমান। শুনানি শেষে আদালত চার দফা নির্দেশনা জারি করেন।

মন্তব্য